এমিরেটস বিমানের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ শতাধিক যাত্রী

এমিরেটস বিমানের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ শতাধিক যাত্রী

নিউজডেস্ক২৪: এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ১০০ যাত্রী। বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাদের অসুস্থতা ধরা পড়ে। এদের মধ্যে ১০ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিমানটি দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে যাচ্ছিল।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই থেকে নিউ ইয়র্কগামী ফ্লাইটটি অবতরণের পরপরই রানওয়েতে জরুরি যানবাহনের ছোটাছুটি দেখা যায়।

যাত্রাপথে বিমানের ভেতরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী। তখন চিকিৎসকরাও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখেন। এই ঘটনার পর বিমানটিকে সাময়িকভাবে আলাদা করে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসি বলছে, প্রাথমিকভাবে বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ১০০ জনের মতো অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এ সময় বিমানের ক্রুরাও বলতে থাকেন যে তারাও হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বিমানটির ভেতরে তখন ৫২১ জন যাত্রী ছিল। অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জরুরি বিভাগের গাড়ি রানওয়েতে জড়ো হতে শুরু করে।

তখন এমিরেটসের পক্ষ থেকে টুইট করে জানানো হয়, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যারা সুস্থ আছেন তাদেরকে বিমান থেকে চলে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হবে বলে তারা জানান।

সিডিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১০০ জনের মতো যাত্রী, যাদের মধ্যে কয়েকজন ক্রু সদস্যও রয়েছেন, তারা জ্বর ও কাশিতে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা বলতে থাকেন।’

‘আমাদের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সবকিছু খতিয়ে দেখছেন। অসুস্থ যাত্রীদের গায়ের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে দেখার পর তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

পরে নিউ ইয়র্কের মেয়রের একজন মুখপাত্রও নিশ্চিত করেছেন, অসুস্থ যাত্রী ও ক্রুদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

বিমানেরএকজন যাত্রী ল্যারি কোবেন টুইটারে কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সুস্থ কিছু যাত্রী বিমান থেকে নেমে যাচ্ছেন।

এবিসি নিউজের খবরে বলা হচ্ছে, অবতরণের আগেই পাইলট জানিয়েছেন, বেশকিছু যাত্রী কাশছেন এবং তাদের গায়ের তাপমাত্রাও খুব বেশি।

বিমানের ভেতরে একসঙ্গে এতোজন যাত্রীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না। এই ঘটনার জন্য ফুড পয়জনিংকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে।

তবে মেয়রের মুখপাত্র বলেছেন, কয়েকজন যাত্রী আসছিলেন সৌদি আরবের মক্কা শহর থেকে। সেখানে ফ্লুর সংক্রমণ ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এটিও একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।