মিয়ানমারের বিচার করার এখতিয়ার নেই আইসিসি’র

মিয়ানমারের বিচার করার এখতিয়ার নেই আইসিসি’র

নিউজডেস্ক২৪: রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রয়েছে বলে যে রায় দেয়া হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার। শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইসিসির রায় প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এই সিদ্ধান্তকে ‘সন্দেহযুক্ত আইনি ভিত্তি এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার ফসল’ হিসেবে অভিহিত করেন।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তার বিবৃতিতে বলেন, ‘ব্যক্তিগত দুর্দশার বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সেখানে অভিযোগ সাজানো হয়েছে, যার সঙ্গে আইনি যুক্তির কোনো যোগাযোগ নেই বরং আবেগের জায়গা থেকে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এর প্রি-ট্রায়াল চেম্বারের তিন বিচারকের প্যানেল রাখাইনে সংগঠিত মানবাধিকার অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে বলে রায় দেয়।

ওই রায়ে বলা হয়, ‘মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য না হলেও রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে ঘটনার একটি অংশ বাংলাদেশে সংগঠিত হয়েছে। ফলে আইসিসি মনে করছে রোম সনদ অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত করার ক্ষমতা এই আদালতের রয়েছে।’

গত বছরের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। সেসময় বাঁচার জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। এ ঘটনাকে জাতিগত নিধন বলে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ। এঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা মিয়ানমারের নিন্দা জানায়।

এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে এই ঘটনার বিচার আইসিসির করার এখতিয়ার আছে কি না তা জানতে চেয়ে আবেদন করেন উক্ত আদালতের প্রধান কৌশলী ফাতোও বেনসুদার। ফাতোও এর সেই আবেদন প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রায় দেয় আইসিসি।

তবে শুরু থেকেই আইসিসির ব্যাপারে মিয়ানমার বলে আসছে, যেহেতু তারা আইসিসির সদস্য নয় সেহেতু তাদের বিচার করার এখতিয়ার নেই এই আদালতের। এ কারণে আইসিসির চিঠির কোনো জবাব দেয়নি মিয়ানমার।

তবে আইসিসি বলছে এটি যদি মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ বিষয় হতো তাহলে আইসিসির এখতিয়ার ছিলো না। কিন্তু এই বিষয়টি বাংলাদেশকেও যুক্ত করেছে। আর বাংলাদেশ যেহেতু আইসিসির সদস্য সেহেতু এই ঘটনার বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে আইসিসির।

গত মাসেই জাতিসংঘের একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন জানিয়েছে, গেল বছর বছর রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযানে ব্যাপক হারে হত্যা, গণধর্ষণ ‘গণহত্যার উদ্দেশ্য’ নিয়েই চালানো হয়েছে। আর এজন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রধানসহ আরও ছয় সেনা কর্মকর্তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।