প্রেগনেন্সি টেস্ট করার ঘরোয়া উপায়!

প্রেগনেন্সি টেস্ট করার ঘরোয়া উপায়!

নিউজডেস্ক২৪: প্রত্যেকটি মহিলার জীবনেই প্রেগনেন্সি একটি বিশেষ ও অনন্য সময়কাল। কনসিভ করার আগে মানুষ অনেককিছু পরিকল্পনা করে থাকে এবং আরো অনেককিছু জড়িয়ে থাকে এর সাথে। প্রেগনেন্সি মানে, আপনি এই পৃথিবীতে একটি নতুন প্রাণকে নিয়ে আসতে প্রস্তুত। আপনি কি প্রস্তুত এই বিশাল দ্বায়িত্ব নিতে? এই সিদ্ধান্ত নিতে আপনাকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে। আপনি যদি প্রেগনেন্ট হয়ে থাকেন প্রাথমিক স্টেজে কিভাবে তা বুঝতে পারবেন? দোকানে কিছু প্রেগনেন্সি স্ট্রিপ পাওয়া যায়, তাৎক্ষনিক রেজাল্ট পেতে আপনি দোকান থেকে সেই স্ট্রিপ কিনে এনে ব্যনহার করতে পারেন।

যদিও, এমন কিছু প্রেগনেন্সি টেস্ট রয়েছে যা আপনি ঘরে বসেই করতে পারেন, আর এই উপায়গুলি প্রজন্ম ধরে চলে আসছে, এবং এখনও খুবই জনপ্রিয়। হতে পারে, সেই উপায়গুলির সবকটি বিজ্ঞানস্মমত না, কিন্তু অনেকগুলিই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এখন, হঠাৎ করে বমি করা ও বমি বমি ভাব গর্ভাবস্থা সনাক্ত করতে যথেষ্ট নয়। কিছু প্রেগনেন্সি টেস্ট রয়েছে যেগুলি আপনি ঘরে বসেও করতে পারবেন। এই পরীক্ষাগুলোতে HCG (হিউম্যান ক্রনিক গোনাডোট্রোপিন) হরমোন এর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, যেটি গর্ভাবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এছাড়াও, পিরিয়ড মিস্‌ করা, স্তনের ফোলা ও নরমভাব, বমিভাব ইত্যাদি প্রাথমিক লক্ষণগুলিও আপনি প্রেগনেন্ট কি না তা নির্ধারন করে।

তাহলে, প্রেগনেন্সি টেস্ট করার ঘরোয়া কিছু উপায়গুলি কি? এখানে কিছু দেওয়া হল, আসুন দেখে নেওয়া যাক।

চিনির সাহায্যে প্রেগনেন্সি টেস্টঃ

বাড়িতে করা এটি অন্যতম একটি নির্ভুল প্রেগনেন্সি টেস্ট। সকালের প্রথম ইউরিনটি সংগ্রহ করুন। এবার একটি পাত্রে এক টেবিল ইউরিন নিন। ওর মধ্যে এক টেবিল চামচ চিনি নিন। যদি, চিনি দলা পাকিয়ে যায় তাহলে রেজাল্ট ইতিবাচক। আর যদি চিনি গুলে যায় তবে আপনি প্রেগনেন্ট না।

সঞ্চিত ইউরিন টেস্টঃ

সকালে প্রথম প্রস্রাবটি সংগ্রহ করুন এবং একটি কমপক্ষে 4 ঘন্টার জন্য না ছুঁয়ে রেখে দিন। যদি আপনি এর ওপরে একটি সাদা আস্তরণ দেখতে পান তবে সেক্ষেত্রে প্রেগনেন্সি থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। যদি আপনার প্রস্রাব এই নির্দিষ্ট সময়কাল পরেও স্বচ্ছ থাকে, তবে আপনি গর্ভবতী নন।

ভিনিগারের সাহায্যে প্রেগনেন্সি টেস্টঃ

সবসময়, সকালের প্রথম ইউরিন দিয়েই প্রেগনেন্সি টেস্ট করা উচিৎ। সাদা ভিনিগার নিয়ে সংগৃহীত ইউরিনের মধ্যে ঢালুন। মিশ্রণটি যদি কালার চেঞ্জ করে তবে আপনি প্রেগনেন্ট।

টুথপেষ্ট টেস্টঃ

একটি পাত্রে কিছুটা টুথপেষ্ট নিন ও তার মধ্যে সংগৃহীত প্রস্রাবের ঢালুন। যদি টুথপেস্টের রঙ নীল হয়ে যায় বা টুথপেস্ট ফেনাদার হয়ে ওঠে তবে আপনি প্রেগনেন্ট। গর্ভাবস্থা শনাক্ত করার এটি সবচেয়ে সহজ একটি উপায়।

ব্লিচিং পাউডার টেস্টঃ

যখন ঘরেই প্রেগনেন্সি টেস্ট করার উপায় খুঁজছেন, তখন ব্লিচিং পাউডারের টেস্টটা একবার ট্রাই করে দেখুন। একটি পাত্রে, প্রস্রাব এবং ব্লিচিং পাউডার মেশান। যদি দেখেন মিশ্রণটি ফেনিল হয়ে যাচ্ছে, তাহলে আপনি আপনার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুখবরটি শেয়ার করতে পারেন।

সরষে গুঁড়ো দিয়ে টেস্টঃ

সময়মতো আপনার মাসিক বা পিরিয়ড না হওয়ার অন্যান্য কারণও রয়েছে। ঘরেই, সরষে গুঁড়ো দিয়ে টেস্ট করে আপনি রেজাল্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন। কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে, সরিষা গুঁড়ো ও গরম জলের মিশ্রণে ভিজিয়ে রাখুন। যদি ২-৩ দিনের মধ্যে আপনার মাসিক শুরু না হয়ে যায় তমে আপনি প্রেগনেন্ট।

বেকিং সোডা দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট:

এটি একটি রান্নাঘরের উপাদান, যা আপনাকে আপনার গর্ভাবস্থা সনাক্ত করতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে বেকিং সোডার সাথে ইউরিন মেশান। যদি দেখেন, মিশ্রণটি ছানা কাটার মতো করে ছ্যাকরা-ছ্যাকরা হয়ে যাচ্ছে তবে বুঝবেন, আপনি প্রেগনেন্ট।

ড্যানডেলিওন পাতা দিয়ে টেস্টঃ

ঘরেই প্রেগনেন্সি টেস্ট করার এটি সহজ একটি উপায়। একটি পাত্রে ড্যানডেলিওন (কুকরাউন্ধা বা কানফুল) পাতা নিয়ে তার মধ্যে সকালের প্রথম ইউরিনটি সংগ্রহ করে এমনভাবে ঢালতে হবে, যাতে পাতাটি পুরোপুরি ডুবে যায়। এখন লক্ষ্য করুন মিনিট খানেকের মধ্যে পাতার ওপরে লাল লাল ফোলা দাগ দেখতে পাচ্ছেন কিনা। যদি পেয়ে থাকেন, তবে আপনি নিশ্চিত হয়ে সুখবরটি শেয়ার করতে পারেন।