লোকাল বাসে বাসায় ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম

লোকাল বাসে বাসায় ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম

নিউজডেস্ক২৪: সাধারণ যাত্রীর মতো রাজধানীর গণপরিবহনে করে বাসায় ফিরলেন সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। পুলিশ প্রটোকল ছাড়াই সচিবালয় থেকে বের হয়ে পুরানা পল্টন থেকে বাসে উঠে যানজট, ধুলোবালি, শব্দ দূষণের মতো যন্ত্রণা মাথায় নিয়ে গুলশানের বাসায় ফেরেন প্রতিমন্ত্রী।

বাসা থেকে সচিবালয়ে, নিজ কার্যালয় থেকে বাসা, এখন থেকে গণপরিবহন ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

আজ বুধবার দুপুরে গুলিস্তান থেকে বাসে চেপে গুলশান নেমে এই ঘোষণা দেন তিনি। নিজ দপ্তরের কাজ শেষ করে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলিস্তান যান তারানা হালিম। পরে জিপিও’র সামনে থেকে ৬ নম্বর বাসে চড়েন তিনি। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে গুলশান পৌঁছান এ তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারানা হালিম জানান, সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের একটা অভিযোগ থাকে, এমপি-মন্ত্রীরা সড়ক পথের যানজট দেখেন না। তারা আশা করে এমপি-মন্ত্রীরা একবার হলেও তাদের সঙ্গে সাধারণ যাত্রীর মতো গণপরিবহনে চলাচল করবেন। সেখান থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

তারানা হালিম বলেন, বাসের যাত্রীরা সবাই খুশি হয়েছেন। তারা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি আমি বাসে উঠবো। আমি সাধারণ যাত্রীদের উচ্ছ্বাস দেখে খুশি হয়েছি, আমারও খুব ভালো লেগেছে।

তিনি বলেন, বাসে উঠে দেখলাম উপরে (ছাদের অংশে) কেটে বাতাস প্রবেশের জন্য ভেন্টিলেটর তৈরি করা হয়েছে। আমি বললাম এটা মাথায় পড়ে কেটে যেতে পারে। তারা বললো ঠিক করে দেবে।

তারানা হালিম আরো বলেন, বাসের সিটের কাভারগুলো তেল চিটচিটে ছিল। আমি বললাম এগুলো হাতে এবং নখে থাকলে কোনো খাবার খেলে তো অসুস্থ হয়ে যাবে মানুষ। কাভারগুলো পরিষ্কার বা পরিবর্তন করে দিতে বললাম, তারা বললো পরিষ্কার করবেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমার কোনো চিন্তা ছিল না।
 
‘বাসে ওঠার সময় আমাকে চিনতে পেরে চালক বললো আপা, পুলিশ ছাড়াই উঠবেন? আমি বললাম হ্যাঁ। তারা বললো আপা আমরাই তো আপনার প্রটেকশন, ওঠেন’।

তারানা হালিম বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিদিনই আমি সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে গণপরিবহনে চলাচল করব। তবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর সময় আমাকে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতেই হবে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ জনগণ যদি প্রতিদিন কষ্ট করে তাদের কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারে, তবে আমরা কেন পারব না। আমরা সবাই-ই মানুষ। আমাদের সকলের আনন্দ আছে, কষ্ট আছে। মানুষের কষ্টগুলো কাছ থেকে দেখতেই আমার এমন সিদ্ধান্ত।’

গুলিস্তান থেকে প্রতিমন্ত্রী যখন বাসে ওঠেন তখন বাসটিতে আগে থেকেই থাকা এক নারী তাকে জায়গা ছেড়ে দেন। এতে অত্যন্ত খুশি হন তারানা হালিম। বাসের অন্যান্য যাত্রীরাও এ সময় খুশি হন। মন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান। এ সময় একাধিক যাত্রী তার সঙ্গে কথা বলেন।