ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ০৮ আশ্বিন ১৪২৫ | ১২ মহররম ১৪৪০

ওবায়দুল কাদের যেটা বলবেন তার উল্টোটা ধরে নেবেন: রিজভী

ওবায়দুল কাদের যেটা বলবেন তার উল্টোটা ধরে নেবেন: রিজভী

নিউজডেস্ক২৪: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘উনারা যে মিথ্যা বলে তা একেবারে সুস্পষ্ট, প্রমাণিত। লাশ যদি কবর থেকে ককটেল মারে আর ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য যদি এ রকম হয় তাহলে বুঝতে হবে যে উনি সত্য বলছেন নাকি মিথ্যা বলছেন।’

রিজভী বলেন, ‘দেশের বাইরে আছেন, ভেতরে অবস্থান করছেন, হজে অবস্থান করছেন অথচ একই সময়ে এখানে মামলা দিচ্ছেন। সুতরাং ওবায়দুল কাদের সাহেবরা যেটা বলবেন আপনারা তার বিপরীতটা ধরে থাকবেন।’

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আপনাদেরকে এর আগেও আমরা বলেছি, ছোটবেলায় রূপকথার গল্প পড়েছিলাম রাক্ষস-খোক্ষসের। রাজকুমারীকে যখন বন্দি করে রাক্ষস যখন চলে যেত আর বলত আমি আজকে দূরে যাব, তার মানে সে দূরে যেত না কাছাকাছি থাকত। রাজকুমারী ধরে নিয়েছিল দূরে যদি বলে তাহলে বুঝতে হবে কাছাকাছি যাবে। আর যদি বলে কাছাকাছি তাহলে দূরে যাবে। আর আপনারা ওবায়দুল কাদের যেটা বলবেন তার উল্টোটা ধরে নিবেন।’ 

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘এই বক্তব্য জনগণের মধ্যে হাসির খোরাক যুগিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় প্রধানমন্ত্রী নিজে। সুতরাং ইসিকে তার সহযোগিতা দেওয়ার অর্থ হলো-আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফন্দি-ফিকির করার জন্যই যে তিনি সহযোগিতা দেবেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ সেটির বহু স্পষ্ট প্রমাণ তিনি ইতিমধ্যে দিয়েছেন। কীভাবে ইসি সরকারি দলের ভোট সন্ত্রাস ও ডাকাতির ফলাফলের বৈধতা দেয় সেটি গত নির্বাচনগুলোতে ফুটে উঠেছে। শেখ হাসিনার কমিশনকে সহযোগিতা করার অর্থ হলো ইসির আত্মসমর্থন নিশ্চিত করা। সেই ইসির নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে বসে থাকতে হবে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অধিকার থাকবে না। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের একমাত্র গ্যারান্টি শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার পুলিশি চাপ দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিঃশব্দে ভীতিকর পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিবেকবর্জিত অমানবিক নিষ্ঠুরতায় বিরোধী দলের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আগামী নির্বাচন সরকারি দলের নাগালের মধ্যে রাখার জন্যই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপিকে দমন করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের বানোয়াট মামলার শিকার করা হয়েছেন দেশের বর্ষীয়ান নেতা ও গুরুতর অসুস্থ বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব তরিকুল ইসলাম।’

রিজভী বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বেপরোয়া হওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা ক্রমাগত মদদ দিয়ে যাচ্ছে। যেমন এইচ টি ইমাম বলেছেন, “যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে হবে।” যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকার ‘ডকট্রিন’ এর ওপর ভিত্তি করে চলা এইচ টি ইমামকে তার জীবনে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে। এই মতবাদের অর্থ হলো- রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেশ অন্ধকারে তলিয়ে দিয়ে হলেও ক্ষমতায় থাকতে হবে। এই ‘যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকার জন্যই’ এইচ টি ইমামরা গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করেছে, গুম-খুন আর ক্রসফায়ারের মনুষ্যত্বহীন কর্মসূচির দ্বারা।'

তিনি আরও বলেন, 'এই মতবাদে বিশ্বাস করেন বলেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে নিহত মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ ডিঙিয়ে তিনি মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন এবং নিজে মন্ত্রী পরিষদ সচিবের পদ ধরে রেখেছিলেন। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকার জন্যই প্রতিযোগিতা ছাড়া তিনি ছাত্রলীগের ছেলেদের জনপ্রশাসনে ঢুকিয়ে বর্তমানে একদলীয় বাকশালী প্রশাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার আয়োজনে লিপ্ত আছেন।’