ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ০৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মহররম ১৪৪০

যাত্রীকল্যাণ মহাসচিবের বিরুদ্ধে মামলা: আদালতের তোপে পুলিশ

যাত্রীকল্যাণ মহাসচিবের বিরুদ্ধে মামলা: আদালতের তোপে পুলিশ

নিউজডেস্ক২৪: চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিন পাওয়া যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে অন্য একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তার সদুত্তর উত্তর না পেয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটিও খারিজ করা হয়েছে। ফলে মোজাম্মেলের মুক্তিতে এখন আর কোনও আইনি বাধা নেই।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই মো. রায়হান।

এসময় ঢাকার মহানগর হাকিম মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়ের করা এ মামলাটিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ বা ১৬৪ ধারায় কেউ তার (মোজাম্মেল) বিরুদ্ধে জবানবন্দি নিয়েছেন কিনা।

তদন্ত কর্মকর্তার নেতিবাচক উত্তরে বিচারক আবার জানতে চান, কোনও সাক্ষী বা কোনও আসামির জবানবন্দিতে নাম না এসে থাকলে কেন তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলো।

তিন বার প্রশ্নের পরও পুলিশ কর্মকর্তা নিরুত্তর থাকেন। এসময় বিচারক মোজ্জামেলকেও কাফরুলের এ মামলার ঘটনা জানেন কি-না জিজ্ঞাসা করেন।

তখন মোজাম্মেল ‘পুলিশের বৈরিতার’কারণ ব্যাখ্যা বলেন, যাত্রীদের কল্যাণে কাজ করছেন বলে মালিক পক্ষ ও পরিহন শ্রমিক নেতাদের রোষানলে পড়েছেন তিনি। পুলিশকে কব্জা করে অন্যায় স্বার্থের বিনিময়ে তাকে একের পর এক মামলায় জড়াচ্ছে ওই মহল।

তখন বিচারক পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন খারিজ করে দেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিস্ফোরক দ্রব্যের আইনের মামলায় মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। ওই আবেদনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজতও (রিমান্ড) চাওয়া হয়েছিল।

সেদিন বিচারক মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে বৃহস্পতিবার হাজিরের জন্য দিন রেখেছিলেন।

এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর দুলাল নামের এক ব্যক্তি মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলা মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ১১ সেপ্টেম্বর তাকে জামিন দেওয়া হয়।

তবে জামিন পেয়েও কাফরুল থানার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে পুলিশের আবেদন থাকায় আটকে যায় তার মুক্তি।