জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প-রুহানির বাকযুদ্ধ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প-রুহানির বাকযুদ্ধ

নিউজডেস্ক২৪: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণসভার বক্তৃতায় একে অপরের সঙ্গে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন। এসময় মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি ও সন্ত্রাসবাদের জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেন ট্রাম্প। পরে ট্রাম্পকে একহাত নিয়ে রুহানি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানের সরকার উচ্ছেদের চেষ্টা করছে অন্যদিকে একই মুখে আলোচনার কথা বলছে।

স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ বার্ষিক সাধারণসভায় বক্তৃতা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নতির কথা তুলে ধরেন। বক্তৃতায় ইরানের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন ট্রাম্প।

ইরান সরকারকে 'দুর্নীতিপরায়ণ একনায়কতন্ত্র' উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে ২০১৫ সালে হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করেন। এসময় তিনি বলেন, ইরানের নেতারা বিশৃঙ্খলা, হত্যা ও ধ্বংসের বীজ বপন করছে।

ইরানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প বলেন, তারা তাদের প্রতিবেশী ও সীমান্ত এবং জাতির সার্বভৌম অধিকারের প্রতি সম্মান করে না। ইরানের নেতারা দেশের সম্পদ লুটে নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করছে এবং তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশে দাঙ্গাহাঙ্গামা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের জনগণ তাদের নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ। কারণ তারা কোষাগার থেকে কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করছে এবং জনগনের ধর্মীয় অঙ্গীকার লুট করছে। আর এসব অর্থ দিয়ে প্রক্সি যুদ্ধ পরিচালনা করছে। এটি ভালো নয়।

এসময় ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কারণ নভেম্বরের ৫ তারিখের মধ্যে ইরানের শক্তিখাতে দ্বিতীয়বারের মতো নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন ট্রাম্প।

পরে বক্তৃতায় এসে ট্রাম্পের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে 'অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে উল্লেখ করেন।

এসময় ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা জানান। এছাড়া ইরানকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেন রুহানি।

জাতিসংঘে বক্তৃতায় দুই প্রেসিডেন্টের বাকযুদ্ধের পর ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টোন। তিনি বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদার কোনো রাষ্ট্রের ক্ষতি করে তাহলে তার কড়া মাশুল দিতে হবে।

পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানো এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেয়াসহ সিরিয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে যু্ক্তরাষ্ট্রে যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব চলছে তাতে জাতিসংঘে বাকযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল আগে থেকেই। তবে এভাবে প্রকাশ্যে একে অপরের ওপর ক্ষোভ উগরে দেবে তা অনুমিত ছিল না।