গল্প করতে গিয়ে আউট হলেন আজহার আলী!

গল্প করতে গিয়ে আউট হলেন আজহার আলী!

নিউজডেস্ক২৪: হায়রে আউট! ক্রিকেটে কত বিচিত্রভাবেই তো আউট হন ব্যাটসম্যানরা। বোকামির জন্য অনেক সময় রানআউটও হন হাস্যকরভাবে। বল না দেখেই রান নিতে গিয়েও আউট হন অনেকে। তবে আজ বৃহস্পতিবার আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান আজহার আলী যেভাবে রানআউট হলেন, সেটা একটি বেশিই হাস্যকর। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান রানআউট হয়েছেন পার্টনার আসাদ শফিকের সঙ্গে গল্প করতে গিয়ে!

বোকামির দণ্ড বলে একটা কথা আছে। তাই বলে এমন বোকামি। হাস্যকর এই বোকামির জন্য আজহার আলি শুধু নিজেকেই দায়ী করতে পারেন! তবে তার জুটি সঙ্গী আসাদ শফিকও সমান দায়ী! তিনিও বলের শেষ পরিণতি না দেখেই পিচের মাঝখানে দাঁড়িয়ে খোশ-গল্পে মেতে উঠেছিলেন আজহারের সঙ্গে।

তিনিও যদি আলস্যতা ভেঙে ঘাড়টা ঘুরিয়ে দেখতেন, বল আসলে বাউন্ডারি সীমানা পেরোয়নি, তাহলেও বিপদ এড়াতে পারতেন। খোশ-গল্প বাদ দিয়ে দুজনেই দৌড়ে ক্রিজে পৌঁছতে পারতেন। কিন্তু আজহারের মতো তিনিও নির্দ্বিধায় ধরে নেন বল ৪ হয়েছে। তাই বলের পেছনে কে দৌড়াল, তিনি বল কুড়িয়ে থ্রু করলেন কিনা, সেসবের দিকে তাকানোর প্রয়োজনই বোধ করেননি। যখন দুজনেই বুঝতে পারলেন, ততক্ষণে ঘটনা শেষ। সতীর্থের থ্রু ধরে স্পাম্পের বেল উড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার টিম পেইন।

ঘটনাটা আজ তৃতীয় দিনের প্রায় শুরুর দিকেই। হারিস সোহেল আউট হওয়ার পর উইকেটে আসেন আসাদ শফিক। তিনি এসে জুটি বাঁধেন দুর্দান্ত ব্যাট করতে থাকা আজহারের সঙ্গে। জুটি বেঁধে ২০টি বল মোকাবিলাও করেন দুজনে মিলে। কিন্তু ২১তম বলটিতেই ঘটে যায় ওই হাস্যকর ঘটনা।

অস্ট্রেলিয়ান পেসার পিটার সিডল বলটি করেছিলেন অফস্টাম্পের বাইরে। বল আজহারের ব্যাটে লেগে চলে যায় থার্ডম্যান এলাকা দিয়ে সীমানার দিকে। থার্ডম্যানে কোনো ফিল্ডার ছিল না। তাই আজহার ধরেই নেন ৪ হয়েছে। আসাদ শফিকও তাই। ৪ যখন হয়েছেই, শুধু শুধু দৌড়ে ঘাম ঝরিয়ে লাভ কি!

দুজনে তাই পিচের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গল্প শুরু করেন। কিন্তু বল ঠিক সীমানা দড়ির কাছে গিয়ে থেমে যায়। মিচেল স্টার্ক দৌড়ে গিয়ে বল কুড়িয়ে থ্রু করেন টিম পেইনের কাছে। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বল ধরে যখন স্টাম্পের বেল ফেলে দেন, তখনো পিচের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আজহার-শফিক! বেল ভেঙে দেওয়ার আগেই টের পান বটে; কিন্তু তখন আর দৌড়ে ক্রিজে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত সময় ছিল না। হতভম্ব হয়ে পিচের মাঝে দাঁড়িয়েই আজহার দেখেন নিজের মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য!

আহজার-আসাদ হতভম্ব তো হয়েছেনই। তাদের চেয়েও বোধ হয় বেশি হতভম্ব হয়েছেন আবুধাবি স্টেডিয়ামে উপস্থিত পাকিস্তানি সমর্থকেরা। আক্ষেপ করে তার হয়তো বলছিল এমন বোকামি কেউ করে! দর্শকদের এই আক্ষেপ মিশ্রিত প্রশ্নের উত্তরে আজহার অবশ্য বলতে পারেন-হ্যাঁ, এমন বোকামিও ব্যাটসম্যানরা কর পারে! উদাহরণ হিসেবে বলতে পারেন, ২০১৬ সালে মোহাম্মদ আমির যেমন করেছিল।

হ্যাঁ, ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঠিক একই রকমভাবে রানআউট হয়েছিলেন আরেক পাকিস্তানি মোহাম্মদ আমির। ক্যারিবিয় স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুকে উড়িয়ে মেরেছিলেন আমির। তিনি এবং তার পার্টনার ওয়াহাব রিয়াজ, দুজনেই ধরে নেন ছক্কা হচ্ছে। কিন্তু সীমানা দড়ির কাছে দাঁড়িয়ে প্রথমে ছক্কা বাঁচান রোস্তন চেজ। পরে বল কুড়িয়ে থ্রু করেন। বল ধরে স্টাম্পভেঙে দেন বিশু। তখনও আমির-ওয়াহাব পিচের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সলা-পরামর্শে মত্ত!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন কাণ্ড আরও একবার ঘটিছিল। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান ইয়ান বেলকে একইভাবে রানআউট করেছিলেন ভারতীয়রা। কিন্তু বোকামি করে রানআউট হলেও সেদিন বেলকে উইকেট ছেড়ে চলে যেতে হয়নি। কারণ, বদান্যতা দেখিয়ে বেলকে আবার ব্যাটিং করার সুযোগ দিয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।

এই হাস্যকর বোকামির বড় খেসারতটা দিতে হয়েছে আজহারকেই। ৬৪ রান করে ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। তবে পাকিস্তানের তেমন ক্ষতি হয়নি। কারণ, আহজার চলে গেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে এরই মধ্যে ৫ উইকেটে ২৯১ রান করে ফেলেছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১৩৭ রানের লিড মিলিয়ে এরই মধ্যে পাকিস্তানের লিড হয়ে গেছে ৪২৮ রানের। হাতে আছে আরও ৫ উইকেট।