1196 মহাকাশযাত্রায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ

রবিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ মাঘ ১৪২৮। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মহাকাশযাত্রায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ

মহাকাশযাত্রায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ

নিউজডেস্ক২৪: ঐতিহাসিক মিশন বা মহাকাশযাত্রায় ছুটে গিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাকাশ বিষয়ক টেলিস্কোপ, জেমস ওয়েব স্পেস। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রেঞ্চ গায়ানা থেকে ইউরোপিয়ান আরিয়ান রকেটে এর যাত্রা শুরু হয় বলে আজ শনিবার জানিয়েছে বিবিসি। এটি তৈরিতে কমপক্ষে ১ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।

৩০ বছর ধরে নকশা প্রস্তুত করা টেলিস্কোপটিতে মহাবিশ্বে আলো বিকিরণকারী নিকটবর্তী কোনো নক্ষত্র ও ছায়াপথের ছবি ধারণ করা হবে। এটি একবিংশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার মধ্যে অন্যতম সর্ববৃহৎ। এই টেলিস্কোপে দূরের গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডল ও আবহাওয়ার বিষয়েও অনুসন্ধান সক্ষমতা রয়েছে।

চাঁদে অবতরণ করা অ্যাপোলো নভোযানের এক স্থপতির নামানুসারে টেলিস্কাপটির নামকরণ করা হয়েছে, যা হাবল টেলিস্কোপের উত্তরসূরী। এটি বানাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা একসঙ্গে কাজ করেছে। আগেরগুলোর থেকে শতগুণ শক্তিশালী এই টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় ছিলেন বিজ্ঞানীরা।

এ নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই ‘ওয়েব একটি অসাধারণ মিশন’ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন মহাকাশ সংস্থা, নাসা। সংস্থাটির প্রধান নিল নেলসন বলছেন, বড় স্বপ্ন দেখলে তা অর্জন করতে পারার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এটি। বড় পুরস্কার চাইলে তো এ রকম বড় ঝুঁকি নিতেই হবে।

টেলিস্কোপে সাড়ে ৬ মিটার প্রশস্ত সোনালী আয়না থাকায় হাবলের চেয়ে ৩ গুণ প্রশস্ত দেখা যাবে। বর্ধিত অপটিক্স ৪টি যুক্ত থাকছে অতি-সংবেদনশীল যন্ত্রের সঙ্গে, যা মহাকাশের গভীরে অনুসন্ধানে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে সাড়ে ১৩ বিলয়ন বছর আগেকার তথা ‘বিগ ব্যাং’ পরবর্তী সৃষ্ট আদি নক্ষত্রের তথ্য খোঁজা হবে।

এই প্রচেষ্টা সফল হলে জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে বলে মনে করেন মিশনে যুক্ত বিজ্ঞানী হেইডি হ্যামেল। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপকে ‘নতুন সীমান্ত’ আখ্যায়িত করে নিজেদের রোমাঞ্চকর আখ্যান জানান দিয়েছেন তিনি।