নিউইয়র্ক হামলা: দোষী সাব্যস্ত হলেন বাংলাদেশের আকায়েদ

নিউইয়র্ক হামলা: দোষী সাব্যস্ত হলেন বাংলাদেশের আকায়েদ

নিউজডেস্ক২৪: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে সন্ত্রাসী আক্রমণের চেষ্টার অভিযোগে আটক আকায়েদ উল্লাহকে সন্ত্রাসবাদের ছয় অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে ম্যানহাটনের এক আদালত। এসব অপরাধে ২৮ বছর বয়সী এই তরুণের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে ।

এক সপ্তাহ শুনানি শেষে মঙ্গলবার আকায়েদকে দোষী সাব্যস্ত করে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার, জনসমাগমস্থল ও পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাসী হামলা ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টাসহ ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আর এই সবগুলোতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি।

গত ১০ জানুয়ারি ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টের গ্র্যান্ড জুরি আকায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পক্ষে মত দেয়। আকায়েদ কখনোই আইএস সদস্য ছিলো না বলে শুনানিতে দাবি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী জুলিয়া গাটো। তিনি বলেন, হতাশাগ্রস্ত এই তরুণ আত্মহত্যার জন্য ওই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন।

কিন্তু তার এ যুক্তি ধোপে টিকেনি। প্রসিকিউটররা বলেন, তিনি তার শরীরে এমনভাবে বোমা বেঁধেছিলেন যাতে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ইন্টারনেটে আইএসের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ আছে বলেও তারা দাবি করেছিলেন।

গতবছর ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি বাস স্টেশনে ওই হামলা চালান আকায়েদ উল্লাহ। হামলায় তিনি নিজে গুরুতর আহত হন। এছাড়া আহত হয় তিন মার্কিন পুলিশও।

হামলা সম্পর্কে মার্কিন পুলিশ জানায়, ২৭ বছর বয়সী আকায়েদ উল্লাহর শরীরে বাঁধা ছিল একটি পাইপ বোমা। ওইদিন পোর্ট অথরিটির দুটি সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মের মাঝে দুর্বল ভাবে বিস্ফোরিত হয় সেটি।

তাকে গ্রেপ্তারের পর নিউ ইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

এ সম্পর্কে তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, 'নিউ ইয়র্ক শহরে বড় ধরণের হামলার পরিকল্পনা ছিল তার। গত দু'মাসে নিউইয়র্ক শহরে দ্বিতীয় হামলার ঘটনা এটি। এই হামলা প্রমাণ করে, মার্কিন জনগণের সুরক্ষায় কংগ্রেসের দ্রুত নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন।'

২০১৭ সালে ফ্যামিলি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন চট্গ্রামের ছেলে আকায়েদ। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পরেন তিনি। কেননা বাংলাদেশে থাকতে তার বিরুদ্ধে কোনো রকম জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ডও নেই।