ছোট মাছের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ!

ছোট মাছের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ!

নিউজডেস্ক২৪: মাছ বাঙালির খুবই পছন্দের একটি খাদ্য। সব বয়সীদের জন্যই মাছ উপাদেয় ও সহজপাচ্য। তাই পরিবারের সদস্যদের আমিষের চাহিদা পূরণে মাছের গুরুত্ব সর্বাধিক। দামে তুলনামূলকভাবে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে ছোট মাছ, বড় মাছের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়।

ছোট মাছ বলতে মূলত পুঁটি মাছ, কাঁচকি মাছ, মলা, ঢেলা, টেংরা, কৈ, মইলশা, শিং, পাবদা, বাটা, মেনি ইত্যাদিকেই বুঝিয়ে থাকে। আমাদের দেশে এই মাছগুলো খুব সহজেই পাওয়া যায়।

ছোট মাছের বৈশিষ্ট্য:

১. ছোট মাছের তন্তুগুলো অপেক্ষাকৃত নরম।

২. ছোট মাছ সহজপাচ্য।

৩. এতে স্নেহ পদার্থ কম থাকে।

৪. নরম কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, যেমন: কাঁচকি, মৌরলা, কাজলি ইত্যাদি আমাদের দেহে প্রচুর ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে।

৫. ছোট মাছে যথেষ্ট পরিমাণে ফসফরাস ও আয়োডিন থাকে।

৬. ছোট মাছের মধ্যে কৈ মাছ ও সরপুঁটিতে প্রচুর চর্বি থাকে। এজন্য এসব মাছের ক্যালরি মূল্য অনেক বেশি।

জেনে নিন ছোট মাছের উপকারিতা

  • ছোট মাছে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। কাঁটাসহ ছোট মাছ ক্যালসিয়ামের এক অনন্য উপাদান। মলা, ঢেলা, চাঁদা, ছোট পুঁটি, ছোট চিংড়ি, কাচকি ইত্যাদি জাতীয় মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন ‘এ’ বিদ্যমান। মানবদেহে দৈনিক প্রচুর ক্যালসিয়ামের চাহিদা থাকে। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশু, গর্ভবতী মা এবং প্রসূতি মায়েদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা আরও বেশি। হাড় ও দাঁত গঠনে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত দরকারি। তাই প্রতিদিন আমাদের ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ ছোট মাছ খাওয়া উচিত।

  • উঠতি বয়সী শিশুদের জন্য প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-৩ এবং ভিটামিন ডি যুক্ত গুঁড়া মাছ খুবই উপকারী। 

  • ছোট মাছে অসম্পৃক্ত চর্বি আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এ ছাড়া আয়রন, প্রোটিন, ফসফরাস, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি২, ফ্যাটি অ্যাসিড, লাইসনি ও মিথিওনিনেরও ভাল উৎস ছোট মাছ।

  • ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ থাকে যা রাতকানা, অন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়াও দৈনন্দিন অনেক শারিরীক সমস্যা দূর করতে সক্ষম। শিশুদের রাতকানা রোগ ঠেকাতে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ মলা, ঢেলা ও গুঁড়া মাছ খাওয়ান। দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুঁড়া মাছ দরকার।

  • যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ গুঁড়া মাছ তাদের ব্ল্যাডপ্রেসার কমাতে সাহায্য করবে।

  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খনিজ লবণ সমৃদ্ধ গুঁড়া মাছ উপকারী। হৃদরোগী, স্ট্রোকের রোগীর ও গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য গুঁড়া মাছ খুবই উপকারী।

ছোট মাছের পুষ্টিগুণ:

১. জলীয় অংশ              ৭৫.০ গ্রাম

২. খনিজ পদার্থ             ১.৪ গ্রাম

৩. ক্যালসিয়াম              ১১০ মিলিগ্রাম

৪. প্রোটিন বা আমিষ        ১৮.১ গ্রাম

৫. চর্বি                     ২.৪ গ্রাম

৬. কার্বোহাইড্রেট            ৩.১ গ্রাম

৭. ভিটামিন-সি              ১৫ মিলিগ্রাম

৮. লৌহ বা আয়রন         ১.০ মিলিগ্রাম

৯. এনার্জি                  ১০৬ কিলোক্যালরি

ছোট মাছে প্রোটিন ও জলীয় অংশ বেশি বলে দ্রুত জীবাণুতে আক্রান্ত হয়। তাই এসব মাছ কেনার পর দ্রুত রান্না করে ফেলা উচিত। ফ্রিজ থেকে বের করে দীর্ঘ সময় বাইরে না রাখা ভালো। কম তাপে এসব মাছ রান্না করবেন। ভাপে করলে আরও ভালো। ধুয়ে অনেকক্ষণ বাইরে রেখে দিলে অক্সিজেনের সংস্পর্শে খাদ্যগুণ কিছুটা নষ্ট হয়।

আবার মাছ সেদ্ধ করে পানি ফেলে দেওয়াও ভালো নয়। তবে ছোট মাছে ইউরিক অ্যাসিড বেশি বলে গেঁটে বাতের রোগীদের কম খাওয়া ভালো। আবার ফসফরাস বেশি বলে কিডনি রোগীদেরও কম খাওয়া উচিত।