দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার!

দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার!

নিউজডেস্ক২৪: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এইচআইভি বা এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার।

এসব রোগীর মধ্যে এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছেন মাত্র ৫ হাজার ৫৮৬ জন। এখনো শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছেন ৭ হাজার ৪১৪ জন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এখনও পর্যন্ত সাধারণ জনগণের মধ্যে সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ০১ ভাগের নিচে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন শিরায় মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, সমকামি ও হিজড়াদের মধ্যে সংক্রমণের হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইবিবিএস-২০১৬: আইইডিসিআর) এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে সংক্রমণের হার ২২ শতাংশ। শুধুমাত্র গত এক বছরে (নভেম্বর ২০১৭ থেকে অক্টোবর ২০১৮) মোট ৮৬৫ জন নতুন এইচআইভি রোগী শনাক্ত করা হয়। যাদের মধ্যে ৬৩ জন রোহিঙ্গা এবং ৩০ শতাংশই বিদেশ ফেরত। বিদেশ ফেরতদের বেশির ভাগই মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের টিবি-লেপ্রোসি ও এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের লাইন ডাইরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে বোঝা যায়, গত এক বছর নতুনভাবে এইচআইভি সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে সর্বোচ্চ ৯০০ জনের। তবে মৃতের সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় কমে এসেছে। এ সংক্রান্ত চিকিৎসা সেবা এনজিও থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর হওয়ায় রোগীরা বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন করে প্রায় ২০০ জনের মধ্যে হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) পাওয়া গেছে। যাদের সবাইকে সদর হাসপাতালের মাধ্যমে এআরভি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আশংকার বিষয়, এদের মধ্যে এমএসএম/হিজড়া রোহিঙ্গাও আছেন। এদের চিকিৎসার্থে বিগত ২১ নভেম্বর উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন এআরটি সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখন থেকে উখিয়া হাসপাতাল থেকেই চিকিৎসা সেবা পাবেন। তাদের কক্সবাজার যাওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রে কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। যদিও সংক্রমণের সবগুলো কারণ এ দেশে বিদ্যমান। যেমন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অবস্থান, ভৌগোলিক অবস্থান, আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন, অসচেতনতা ইত্যাদি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম সম্প্রতি ইউএন এইডসের ৯০-৯০-৯০ লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। যার লক্ষ্য, সম্ভাব্য ২০২০ সালের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তদের ৯০ শতাংশকে শনাক্তের আওতায় আনা, শনাক্তকৃতদের মধ্যে ৯০ শতাংশকে চিকিৎসা সেবার আওতায় অন্তর্ভূক্ত করা এবং চিকিৎসা সেবায় থাকা ৯০ শতাংশের ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখা।

নির্ধারিত সময়ে ইউএন এইডসের ৯০-৯০-৯০ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে কিনা- জানতে চাইলে টিবি-লেপ্রোসি ও এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের লাইন ডাইরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা পর্যাপ্ত হলেও ভাইরাল লোড টেস্টিং অপর্যাপ্ত। দেশে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইরাল লোড টেস্টিং হয়। বিগত বছরে রি-এজেন্টের স্বল্পতার কারণে কোনো টেস্ট করা হয়নি। তবে এএপি সম্প্রতি জিন এক্সপার্ট মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে ভাইরাল লোড টেস্টিংয়ের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যেহেতু এ মেশিনটি এরই মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তাই দ্রুত সময়ে বাকিদের শানাক্তের আওতায় আনা সম্ভব হবে। 

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো শনিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশেও এইচআইভি/এইডস দিবস পালিত হয়।  প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, এইচআইভি ভাইরাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার প্রকাশ ও আক্রান্তদের প্রতি সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যে ১৯৮৮ সাল থেকে এ দিবসটি সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বছরে দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো-এইচআইভি পরীক্ষা করুন, নিজেকে জানুন।

প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকদের নেতৃত্বে দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা সভা ও র‌্যালি করা হবে।

ঢাকায় সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।