দেশে প্রথম বিষাক্ত ব্যাঙের সন্ধান পেলেন জাবি অধ্যাপক

দেশে প্রথম বিষাক্ত ব্যাঙের সন্ধান পেলেন জাবি অধ্যাপক

নিউজডেস্ক২৪: দেশে নতুন এক প্রজাতির ব্যাঙের সন্ধান পেয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল গবেষক। নতুন এই প্রজাতির ইংরেজি নাম গ্রিন ক্যাসকেড ফ্রগ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ওডোরানা লিভিডা। গবেষকদের দাবি, এর আগে দেশের কোথাও এই প্রজাতির ব্যাঙ দেখে যায়নি। তারা আরও জানান, এটিই বাংলাদেশে পাওয়া একমাত্র বিষাক্ত ব্যাঙ।

প্রাণিবিদ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে ৪৯ প্রজাতির ব্যাঙ ছিলো বাংলাদেশে। নতুন প্রজাতিটি যুক্ত হয়ে ব্যাঙয়ের প্রজাতির সংখ্যা দাঁড়ালো অর্ধশত।

একটি প্রকল্পের অধীনে গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাবি’র প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান চট্টগ্রাম বিভাগের একটি পাহাড়ি অঞ্চলে যান। তার সহকারী হিসেবে ওই বিভাগের দু’জন ছাত্র গবেষণায় অংশ নেন। এরা হলেন, ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌকির হাসান হৃদয় ও তৌহিদুর রহমান তারেক।

গবেষক দলের সদস্যরা জানান, প্রাণী অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে একদিন ঝর্ণার ধারে অচেনা একটি পুরুষ ব্যাঙের দেখা পান অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান। সেদিন ব্যাঙটি হাতে নিয়ে ছবি তোলেন, মাপ নেন তারপর ব্যাঙটিকে আবার একই জায়গায় ছেড়ে দেন তিনি। ব্যাঙটি ছেড়ে দেওয়ার পর মো. কামরুল হাসান দেখতে পান শরীরে যে অংশে ব্যাঙের স্পর্শ লেগেছিল, সেখানে চুলকাচ্ছে। পরদিন তারা একই জায়গায় ওই প্রজাতির একটি স্ত্রী ব্যাঙ দেখতে পান। ব্যাঙটিকে হাতে তুলে নিলে আবারও হাত চুলকাতে শুরু করে। এরপর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দেখা যায়, এটি গ্রিন ক্যাসকেড ফ্রগ। সাধারণত ভারতের মেঘালয় এবং ইন্দোনেশিয়ায় এই প্রজাতির ব্যাঙ দেখা যায়।

অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান জানান, এই প্রজাতির ব্যাঙের মধ্যে পুরুষ ব্যাঙ সাধারণত স্ত্রী ব্যাঙের চেয়ে আকারে ছোট হয়। প্রথম দিন পাওয়া পুরুষ ব্যাঙের দৈর্ঘ্য ছিল ৫ সেন্টিমিটার। পরদিন পাওয়া স্ত্রী ব্যাঙের দৈর্ঘ্য ছিল ৬.৭ সেন্টিমিটার। বাংলাদেশে এই প্রজাতির ব্যাঙের দেখা মিলল এবারই প্রথম।

এ বছরের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বিভাগের একটি অঞ্চলে প্রথম এই ব্যাঙের দেখা পাওয়া যায়। তবে গবেষণা কার্যক্রম বাকি থাকায় কোন এলাকায় ব্যাঙটির সন্ধান পাওয়া গেছে তা জানাতে রাজি হননি অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, এটা কোন এলাকায় পাওয়া গেছে তা বললে ওই এলাকায় ফটোশিকারিদের আগমন বাড়বে। এতে ব্যাঙের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। তাছাড়া এই ব্যাঙ নিয়ে গবেষণা কম। আগামী বছর এই প্রজাতির ব্যাঙ নিয়ে গবেষণা করা হবে। এতে ওদের খাদ্যাভাস এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।