আজ শুভ বড়দিন

আজ শুভ বড়দিন

নিউজডেস্ক২৪: আজ ২৫ ডিসেম্বর। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। এই দিনে খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টি-কর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে প্রভু যিশুর এই ধরায় আগমন ঘটেছিল। অন্যসব দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিস্টধর্মানুসারীরাও যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন।

জেরুজালেমের বেথলেহেম শহরের এক গোয়াল ঘরে আজ থেকে দুই হাজার ১৮ বছর আগে জন্ম নিয়েছিল এক শিশু। নাম তার যিশু, অর্থ ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে। । তবে এ দিনটিই যিশুর প্রকৃত জন্মদিন কিনা তা ঠিক জানা যায় না। আদিযুগীয় খ্রিস্টানদের বিশ্বাস মতে, এই তারিখের ঠিক ৯ মাস আগে মাতা মেরির গর্ভে প্রবেশ করেন যিশু। সম্ভবত, এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর যিশুর জন্মতারিখ ধরা হয়। অন্যমতে, একটি ঐতিহাসিক রোমান উৎসব অথবা উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ অয়নান্ত দিবসের অনুষঙ্গেই ২৫ ডিসেম্বর যিশুর জন্মজয়ন্তী পালনের প্রথাটির সূত্রপাত হয়।

যিশুর মায়ের নাম মারিয়া। তিনি প্রসব করলেন সন্তান। কিন্তু তিনি তখনও কুমারী। স্বয়ং ঈশ্বরের ইচ্ছায় এই অকল্পনীয় ঐশ্বরিক ব্যাপারটি ঘটলো। কারণ, ঈশ্বর চান একদিন এই শিশুটি পৃথিবীর পাপী-তাপী মানুষের জন্য আলোর মশাল হাতে ধর্মের বাণী পৌঁছে দেবেন। শান্তির বাণী প্রচার করবেন। ঈশ্বরকে চেনাবেন। আর ঈশ্বরের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন সকল মানুষের মুক্তির জন্য।

মারিয়ার স্বামী কাঠমিস্ত্রী যোসেফ। যিশুর তিনি পালক পিতা। পালক পিতার ঘরে শিশু যিশু ধীরে ধীরে বড় হতে থাকলেন। বড় হয়ে পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষকে মুক্তির বাণী শোনালেন। তিনি বললেন, ‘ঘৃণা নয়, ভালোবাসো। ভালোবাসো প্রতিবেশীকে, তোমার শত্রুকেও ভালোবাসো, ভালোবাসো সবাইকে। মানুষকে ক্ষমা করো, তাহলে ক্ষমা পাবে তুমিও। কেউ তোমার এক গালে চড় মারলে তার দিকে অপর গালটিও পেতে দাও।

তিনি আরও বললেন, পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়। গরিব-দুঃখীদের সাধ্যমতো সাহায্য কর আর ভয় কর ঈশ্বরকে ।

যিশুর কথা শুনে অনেকে তাদের মন ফেরাল। ঈশ্বরের নামে অসুস্থদের সুস্থ করে তুললেন তিনি, মৃত মানুষকে জীবিত করলেন। যিশুখ্রিষ্ট হয়ে উঠলেন মানুষের মনের রাজা।

রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় এবং সমাজনেতারা এসব সহ্য করতে পারলেন না। যিশুখ্রিষ্টকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে বন্দি করে ক্রুশে বিদ্ধ করে হত্যা করলো তারা। মৃত্যুর তৃতীয় দিনে যিশু কবর থেকে উঠে প্রমাণ করলেন, তিনি সত্যি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন।

সারা বিশ্বের খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের মতো বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও দিনটি পালন করে থাকে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে। বড়দিনের বেশ কিছুদিন আগ থেকেই শুরু হয়ে যায় যিশুকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। প্রস্তুতি দুই ধরনের—আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক।

আধ্যাত্মিক প্রস্ততি হলো ঈশ্বরের কাছে পাপের ক্ষমা চেয়ে পাপের জন্য অনুতাপ করা এবং কারও সঙ্গে বিরোধ থাকলে তা মিটিয়ে ফেলে নিজেকে প্রস্তুত করা।

বাহ্যিক প্রস্তুতি হল উৎসবের আয়োজন। গির্জা ও ঘরবাড়ি সাজানো, বিভিন্ন ধরনের পিঠা বানানো, কেক বানানো আর নতুন জামাকাপড় বানানোর ধুম। বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব চার্চ ও তারকা হোটেলগুলোকে ক্রিসমাস ট্রি রঙিন বাতি, বেলুন আর ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এ ছাড়া আছে বড়দিনের কীর্তনের রিহার্সেল, নাটকের রিহার্সেল আর বড়দিনের বিশেষ ম্যাগাজিন ছাপার কাজ।

বড়দিনের আগের রাতে এবং বড়দিনের সকালে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠান (খ্রিষ্টযোগ) হয়। এদিন সব বাড়িতেই বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু ও উন্নতমানের খাবারদাবারের আয়োজন থাকে। বেড়ানো, অতিথি আপ্যায়ন আর আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায় তাদের সবচে’ আনন্দের দিন, বড়দিন পালন করে থাকে।

রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থণার আয়োজন করা হয়েছে। গির্জা ও এর আশপাশে জ্বালানো হয়েছে রঙিন বাতি। প্রচুর জরি লাগিয়ে গির্জার ভেতর সুসজ্জিত করা হয়েছে। ভেতরে সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি।

বড়দিন উপলক্ষে বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও এবং মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজনকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে এদিন সরকারি ছুটির দিন। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আলাদা বাণী দিয়েছেন।

বড় দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।