চালের বাজার চড়া

চালের বাজার চড়া

নিউজডেস্ক২৪: নতুন বছরের (২০১৯ সাল) শুরুতে হঠাৎ করেই ধান-চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। মান ভেদে ধানের দাম মনে বেড়েছে ১০০-১২০ টাকা। আর চালের দাম ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ১০০-৩০০ টাকা পযর্ন্ত। সে হিসেবে নতুন বছরে কেজিতে ধানের দাম বেড়েছে আড়াই থেকে ৩ টাকা। আর চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা।  

অভিযোগ উঠেছে, চালের মিল মালিকরা কারসাজি করে চালের দাম বাড়ি দিচ্ছেন। তবে মিল মালিকদের একটি পক্ষের দাবি, চালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারের বেঁধে দেয়া দামের মধ্যেই চাল বিক্রি হচ্ছে। আর ব্যবসায়ীদের একপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের পর চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ৭-১০ দিনের মধ্যে চালের দাম কমে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কারণ, বতর্মানে ধান বা চালের কোনো ঘাটতি নেই।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় দিন বা বুধবার থেকে চালের দাম বাড়া শুরু হয়। বতর্মানে খুচরা পর্যায়ে ভালো মানের মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৮ টাকা, যা নিবার্চনের আগে ছিল ৫০-৫২ টাকা। সে হিসাবে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪-৬ টাকা। তবে সব থেকে বেশি বেড়েছে মাঝারি মানের চালের দাম। বতর্মানে মাঝারি মানের চাল বিআর-২৮ ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৮ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৩৮- ৪২ টাকা। অর্থাৎ নতুন বছরে মাঝারি মানের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা। নিবার্চনের আগে ৩৪-৩৬ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৮-৪০ টাকা। এই হিসাবে মোটা চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা।

চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মো. খায়রুল ইসলাম নামের একজন বলেন, কয়েকদিন ধরেই ধানের দাম বাড়তি। সব ধরনের ধানের দাম মণে ১০০-১২০ টাকা বেড়েছে। ধানের দাম বাড়ার এই প্রভাব পড়েছে চালের দামের ওপর। ঢাকার খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের মেসার্স আল্লারদান রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, ৩-৪ দিন ধরে চালের দাম বাড়তি। প্রথমে রশিদের চালের দাম বেড়েছে। এরপর একে একে সব কোম্পানি চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই ব্যবসায়ী বলেন, নিবার্চনের আগে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি করেছি ২৬০০-২৬৫০ টাকা। এখন সেই চাল ২৭৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। ১৯৫০ টাকা বিক্রি করা বিআর-২৮ চালের বস্তা এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ২২৫০ টাকা। এভাবে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। রামপুরার ব্যবসায়ী মো. শিপলু বলেন, সব ধরনের চালের দাম বাড়তি। ২-৩ দিনের মধ্যে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৫-৬ টাকা বেড়ে গেছে। হঠাৎ কি কারণে যে চালের দাম এমন বাড়ল, কিছুই বুঝতে পারছি না।

বাবুবাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো রাইসমিল ওনাসর্ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, এখন চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। বন্যা, খরা, বৃষ্টি কোনো কিছুই হয়নি। সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। তাহলে কেন চালের দাম বাড়বে। চালের দাম বাড়ার যদি কোনো কারণ থাকে, তাহলো সিন্ডিকেট। মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, চালের দাম বাড়ানোর এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা রশিদ (রশিদ এগ্রো ফুট প্রডাক্টস লিমিটেডের মালিক মো. আবদুর রশিদ)। কোনো কারণ ছাড়াই নিবার্চনের পর রশিদের চালের দাম বস্তায় বাড়ানো হয়েছে ৩০০ টাকা। দেশে কি এমন ঘটল যে, হঠাৎ করে চালের দাম এমন বাড়িয়ে দিতে হবে। চালের দাম স্বাভাবিক করতে হলে মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। সেই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

তিনি বলেন, আগের থেকে এখন হয় তো চালের দাম একটু বাড়ছে। এটা স্বাভাবিক। চালের দাম কমে যাওয়াটাই অস্বাভাবিক ছিল। এখন কিছুটা দাম বেড়ে, সেটা সমন্বয় হয়েছে। আর মিনিকেট চালের দাম বাড়া এটা কোনো বিষয় না। এ নিয়ে সরকারেরও কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ, মিনিকেট চাল বছরে একবার হয়। এখন মিনিকেট চাল শেষ হয়ে আসছে। সুতরাং, ১-২ টাকা করে বাড়বেÑ এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া এই চাল খাওয়ার মানুষ আলাদা। সাধারণ মানুষ এই চাল খায় না।