‘আমার বিড়াল কারোটা খায় না, কারোটা পরেও না’

 ‘আমার বিড়াল কারোটা খায় না, কারোটা পরেও না’

নিউজডেস্ক২৪: নায়লা নাঈমের নতুন করে পরিচয় দেয়ার কিছু নেই। নায়লা একাধারে ডেন্টিস, মডেল ও অভিনেত্রী। তবে এই গ্লামার কন্যার সবচেয়ে বড় দিক তিনি একজন পশুপ্রেমিক।

পশুপাখিদের জন্য তিনি মন খুলে কাজ করেন। রাস্তা ঘাটে পশুপাখির উপর মানুষের অত্যাচার দেখলে তিনি প্রতিবাদ করেন। সকল অনুষ্ঠান বা ইন্টারভিউতে সুযোগ পেলেই তিনি পশু-পাখি রক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। শুধু তাই নয় নিজের বাসাটিকেই তিনি পশুদের একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

রাস্তায় কোন অসুস্থ বা আহত পশু পাখি দেখলে সেটিও তুলে নিয়ে আসেন তিনি। সেটিরও ঠায় হয় নায়লার বাসায়। অন্ধ, আহত বেশকিছু বিড়াল ও কুকুরের স্থায়ী বসবাস নায়লার সঙ্গে। পরম মমতা ও মাতৃস্নেহে সেগুলোকে সুস্থ করে তোলেন তিনি।

নায়লার বাসায় পশু-পাখি থাকলে বিরক্ত হন প্রতিবেশীদের অনেকে। আর এবার এমনই কয়েক জন প্রতিবেশী মিলে নাকি অভিযোগ করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরে। নায়লা নাকি বাণিজ্যিকভাবে বিড়াল উৎপাদন ও বেচাকেনা শুরু করেছেন! অভিযোগ পেয়ে, তদন্ত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনও হাজির নায়লার বাসায়।এ ঘটনায় ভীষণভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন নায়লা। আর তার এই ক্ষোভ ও দু:খের বহি:প্রকাশ দেখা গেছে ফেসবুক পোস্টে।

নায়লার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল:

ঢাকা শহরে পশুপ্রেমিক মানুষের জন্য প্রতিবন্ধকতার কোন শেষ নাই। আমি নায়লা নাঈম, আমার নিজের বাসায় বিড়াল পুষি। আমার বিড়াল কারোটা খায় না, কারোটা পরেও না, এমনকি ঘর ছেড়ে বের ও হয় না। তাও এটা নিয়ে প্রতিবেশীর অভিযোগ। অভিযোগটা দারুন মনগড়া এবং হাস্যকর।

"আমি নায়লা নাঈম নাকি বানিজ্যিকভাবে বিড়াল কেনাবেচা করি!"- এই অভিযোগ তারা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে এবং সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইন্সপেক্টর আসে আমার বাসা পরিদর্শন করতে। নিজের চোখের সামনে নিজের ব্যাক্তিস্বাধীনতা এভাবে ক্ষুন্ন হতে দেখা কতটা অপমানজনক হতে পারে আমার জন্য তা হয়ত আপনারা কেউ উপলব্ধি করতে পারবেন না।

এর বিচার আমি কার কাছে চাইব?

এ বিষয়ে নাঈলা বলেন, ‘আমি বিড়ালগুলোকে সন্তানের মতো ভালোবাসি এটাই কি আমার অপরাধ। যখন রাস্তায় পশুপাখি, কুকুর-বিড়ালকে অমানবিক ভাবে হত্যা করা হয়, খেতে না পেয়ে মারা যায় তখন তো কেউ কথা বলেন না। আর আমি তাদেরকে আদর স্নেহে পালন করি এটাই কি আমার অপরাধ। আমি বিষয়টি নিয়ে খুব দ্রুত একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকবো।