ব্রেকআপের পরেও প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার উপায়!

ব্রেকআপের পরেও প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার উপায়!

নিউজডেস্ক২৪: আজকাল প্রেমের সম্পর্কগুলো অনেক দ্রুত ভেঙে যায়। আসলে নানান কারণেই সম্পর্কে ব্রেকআপ হয়। তবে সম্পর্ক শেষ মানেই কোনও রকম যোগাযোগই আর থাকবে না, এমন ভাবনা এই প্রজন্মের অনেকেই ভাবেন না। বরং প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে চলায় বিশ্বাসী অনেকেই। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় এই ভাবনায় পথ হাঁটতে গেলে কখনও আরও বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, প্রেম ভেঙে যাওয়া মানেই যে একজন মানুষ জীবন থেকেই ব্রাত্য হয়ে যান না, তার সঙ্গে নেহাত বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখাই যায়, এমন ভাবনা উদারতার কথাই বলে। কিন্ত দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই উদারতা অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যার কারণ হয়। কারণ বেশির ভাগই এই ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল জানেন না।

কেবল বন্ধুত্ব রাখার ক্ষেত্রেই নয়, অনেক সময় প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে নানা ধরনের কাজের কারণেও যোগাযোগ রাখতে হয়। প্রাক্তনকে দেখলে অনেকের মধ্যেই মুহূর্তে পুরনো স্মৃতি, লুকিয়ে রাখা ক্ষোভ, অনুভূতি, নানা ভুল আবেগ মাথাচাড়া দেয়। সে সবের হাত ধরেই আসে জটিলতা। নতুন করে অপমানিত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

আবার নিজের সম্মান বজায় রেখে, হাস্যাস্পদ না হয়েও প্রাক্তনের সঙ্গে সুন্দর একটা বন্ধুত্ব বা যোগাযোগ রাখতেই পারেন অনেকেই। তবে তার জন্য মাথায় রাখতে হবে বিশেষ কিছু বিষয়। দেখে নিন সে সব।

নতুন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা নয়

অতিরিক্ত আবেগ বা কখনও দেখনদারির কারণে অনেকে প্রাক্তন সঙ্গীকে দেখলেই তার বর্তমান সুখ, আনন্দ এ সব নিয়ে কথা শোনাতে ব্যস্ত থাকেন। কেউ বা প্রাক্তন সঙ্গীর প্রেম বা সম্পর্ক নিয়েও অতিরিক্ত কৌতুহল দেখিয়ে ফেলেন। এড়িয়ে চলুন এই স্বভাব। এতে কেবল জটিলতা বাড়ে তা-ই নয়, আপনার অতিরিক্ত কৌতুহল অন্যের চোখে নিজেকে ছোট করে দিতেও পারে। মনে রাখবেন, সম্পর্ক শেষ হয়েছে আবেগ আর কাজ করেনি বলেই। সুতরাং প্রাক্তন সঙ্গী আপনার সব কিছু খুব সহানুভূতির চোখে দেখবেন, এমন আশা না করাই ভাল। আবার তা দেখলেও যে সারাক্ষণ সেই সুযোগ নিয়ে যেতে হবে, এটাও কোনও কাজের কথা নয়।

পুরনো কাসুন্দি নয়

প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে দেখা হওয়া মানেই আপনার প্রতি তার ব্যবহার, ভুল-ঠিক, দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়ে যাওয়া নয়। এটা আগে বুঝতে হবে। পুরনো সম্পর্ক থেকে বেরনোর পর কে কতটা ভাল আছেন, এ সব অতিরিক্ত প্রকাশে ছেলেমানুষিই প্রকাশ পায়। বরং দেখা হলে স্বাভাবিক ও সাধারণ থাকুন। খুব বেশি পুরনো স্মৃতি ঘাঁটতে বসলে মনে হবে আপনি সেই মুহূর্তগুলো থেকে বেরিয়ে আসতেই পারেননি। এমনকি, সেই মানুষটাকেও ভুলতে পারেননি। তাই বন্ধুত্ব বজার রাখতে হলে আগে অতীত থেকে সরুন।

ঘন ঘন যোগাযোগ এড়ান

বন্ধুত্ব বা কাজের সম্পর্কটুকু রাখতে গেলে কিছুটা সামাজিকতাও রাখতে হয়, তাই যোগাযোগ না রেখে চলা মুশকিল। কিন্তু পরিমিতিবোধকে বিসর্জন দেবেন না। যতটুকু যোগাযোগ দু’জনের পক্ষেই সম্মানের, সেটুকু বজায় রাখুন। খুব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা বা একে অন্যের সব বিষয়ে মতামত দেওয়া থেকে দূরে থাকুন। অনেকেই বন্ধুত্বের ছলে পুরনো সম্পর্কের উষ্ণতাই অনুভব করতে চান। নিজে কী তেমনই চাইছেন? সেটা আগে বুঝুন। যদি নিজেও চান, সম্পর্ক ফিরুক ফের, তবেই ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলুন, গাঢ় করুন বন্ধুত্ব। নয়তো কিছুটা সীমারেখা টেনে মেশাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।