নিউজিল্যান্ড সফর হার দিয়ে শুরু টাইগারদের

নিউজিল্যান্ড সফর হার দিয়ে শুরু টাইগারদের

নিউজডেস্ক২৪: নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ২ উইকেটে পরাজিত হয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ একাদশ। দল হারলেও নতুন কন্ডিশনে দুর্দান্ত অর্ধশতক করেন দলের নির্ভরযোগ্য দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিউইদের বিপক্ষে মূল লড়াইয়ের আগে যা বড় প্রাপ্তি হিসেবে ধরা দিয়েছে টাইগার শিবিরে।

লিঙ্কনে টস হারের পর স্বাগতিকদের আমন্ত্রণে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৬.১ ওভারে ২৪৭ রানে অল-আউট হয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাছাড়া মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে ৬২ ও সাব্বির রহমান করেন ৪০ রান। এর জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১১ বল ও ২ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।

স্বাগতিকদের আমন্ত্রণে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা সুখকর হয়নি বাংলাদেশের। এদিন ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন লিটন দাস ও মুমিনুল হক। তবে উদ্বোধনী জুটিতে এদিন দলকে শুভ সূচনা এনে দিতে পারেননি তারা।

ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ১০ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফিরেন মুমিনুল। তার বিদায়ের ৩ বলের মধ্যে সাজঘরের পথ ধরেন লিটনও। আউটের আগে ১০ বল মোকাবেলায় ৩ রান করেন তিনি। এরপর ক্রিজে মুশফিকের সাথে যোগ দেন সৌম্য সরকার। তবে বিপর্যয়ের হাত থেকে দলকে রক্ষা করার বিপরীতে উল্টো দলের বিপর্যয় বাড়িয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনিও।

৯ বলে ১ রান করা সৌম্যর বিদায়ের পর সুবিধা করতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুনও। ৫ বল মোকাবেলায় আউট হয়েছেন ১ রান করে আর এতে দলীয় ৩১ রানে ৪ উইকেটের পতন ঘটে সফরকারীদের। এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেন মুশফিক ও রিয়াদ।

দু’জনে মিলে এ উইকেট জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ১০৮ রান। অর্ধশতকের দেখা পান উভয় ব্যাটসম্যানই। ৮ চারের সাহায্যে ৪৬ বলে অর্ধশতক তুলে নেন মুশফিক। তার অর্ধশতক পূর্ণের কিছুক্ষণ পর অর্ধশতকের দেখা পান রিয়াদও। ৬৬ বল মোকাবেলায় ৭ চারে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকের দেখা পান তিনি।

দলের বিপর্যয়ে ত্রাতা হয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করলেও, দুই ব্যাটসম্যানের কেউ-ই তা পরিণত করতে পারেননি তিন অঙ্কে। ৬১ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলে মুশফিক বিদায় নিলে দলীয় ১৩৯ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় টাইগাররা।

মুশফিক ফিরে যাওয়ার পর সাব্বিরকে সাথে নিয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন রিয়াদ। দু’জনে মিলে গড়েন ৩৫ রানের জুটি। এরপর বড় শট খেলতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থার্ডম্যানে ক্যাচ দিলে বিচ্ছিন্ন হয় জুটিটি।

আর এতে থামে তার ৮৮ বলের ৭২ রানের ইনিংস। ১০ চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে দলীয় ১৭৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তার কিছুক্ষণ পর অধিনায়ক মিরাজও সাজঘরে ফিরলে ১৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফের চাপে পড়ে সফরকারীরা। দলের এমন পরিস্থিতিতে লড়ে যান সাব্বির। ৪১ বলে ৬ চারে ৪০ রানের ইনিংস খেলে তিনিও আউট হলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয় সফরকারীরা।

শেষ দিকে নাঈম হাসানের অপরাজিত ১৭ ও মুস্তাফিজের ১২ রানে ভর করে অল-আউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে ২৪৭ রান যোগ করতে সক্ষম হয় সফরকারীরা।

স্বাগতিক বোলারদের মধ্যে ম্যাকপিক ৩৮ রানের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট লাভ করেন।

২৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরুর দেখা পায় স্বাগতিকরা। উদ্বোধনী জুটিতে রাভাল ও ফ্লেচার মিলে গড়েন ১১৪ রানের জুটি। নাঈম হাসান ৫২ রান করা রাভালকে ফিরিয়ে সফরকারীদের এনে দেন প্রথম সাফল্য। দলীয় ১৮২ রানে ব্যক্তিগত রানে ফ্লেচার আউট হলে জমে ওঠে ম্যাচ।

তবে অল্প পুঁজি থাকায় শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারী বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত অ্যালেনের ৩০ ও ক্লার্কের ১৯ রানে জয়ের পথ পরিষ্কার হয়ে যায় স্বাগতিকদের। শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারালেও জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি কিউইদের।

সফরকারী বোলারদের মধ্যে মিরাজ, মুস্তাফিজ ও রিয়াদ প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট লাভ করেন। এছাড়া একটি করে উইকেট লাভ করেন সৌম্য ও নাঈম।