বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

নিউজডেস্ক২৪: বগুড়ায় ইরি বোরো ধান কাটা শুরু করেছে কৃষকরা। সেই সাথে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন পেয়ে হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। প্রতিকুল আবহাওয়ার প্রকপ থেকে রক্ষা পেতে এবার অনেকটা আগে ভাগেই কৃষকরা ঘরে তুলছেন ধান। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাঠ গুলোতে শোভা পাচ্ছে পাকা ধানের সোনালী শীষ। উজ্জল রোদ আর বাতাসে ঝলমল করছে ধান ক্ষেত। সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগে কাস্তে হাতে ধান কাটার উৎসবে মেতে উঠছে কৃষকরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার বগুড়ার ১২ উপজেলায় এক লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষাবাদ হয় এক লাখ ৮৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। আর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬০ লাখ ৫৪ হাজার টন কিন্তু ফলন ভালো হওয়ায় এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এদিকে ফলন ভালো হলেও ভালো দাম পাওয়া না পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন এ অঞ্চলের ধান চাষিরা।

মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সব ধরনের কৃষি পন্যের দাম বাড়ার কারনে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষক যদি তাদের পণ্যের সঠিক দাম পায় তাহলে সমস্যা নেই। কৃষকের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গিয়ে বাজারে পণ্যের দাম বেশি পড়লে সীমিত আয়ের লোকজন দূর্ভোগে পড়বে সে দিকটাও সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে।

এ ব্যাপারে জেলার শিবগঞ্জের মোকামতলা এলাকার কাশিপুর গ্রামের ধান চাষি নজরুল ইসলাম জানান, এবার প্রতি বিঘা বোরো চাষে ১৩ হাজার ৫০ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি এবার ৪ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তার মতে, এক বিঘা জমিতে বীজ বাবদ ৪শ ৫০ টাকা, হালচাষ ৮শ টাকা, চারা লাগানো ৮শ টাকা, সেচ খরচ বাবদ ১২শ টাকা, সার বাবদ ৪ হাজার টাকা, কীটনাশক বাবদ ২ হাজার টাকা, পরিচর্যা বাবদ ১ হাজার টাকা ও ধান কাটা বাবদ ২ হাজার ৮শ টাকা খরচ হয়েছে।

তিনি বলেন, তবে এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলন হবে। সে হিসেবে প্রতি বিঘায় ২২ থেকে ২৫ মন ধান হতে পারে। কিন্তু উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে চিন্তা এখন ও কাটেনি।

জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার হাটলাল গ্রামের কৃষক বজলুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকায় ধান কাটা শুরু হইছে। ফলনও মাশাল্লাহ ভালো হইছে কিন্তু ভালো দাম না পেলে এবার আমাদের লোকসান গুনতে হবে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন ধানের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধুমাত্র নতুন ধান হিসেবে মিনিকেট ধান ৭শ থেকে ৭শ ৫০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য জাতের নতুন ধান বাজারে আসতে এক থেকে দু,সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ধান ব্যবসায়ীরা।

বগুড়া সদরের গোকুল এলাকার ধান চাষি আইন উদ্দিন জানান, এবার ফসল ভালো হয়েছে। কিন্তু খরচ তোলা নিয়ে চিন্তা এখনো কাটেনি। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট তো রয়েছেই। এখনো দেশের অন্যান্য স্থান থেকে শ্রমিকরা এসে পৌছায়নি। আবার গ্রামের শ্রমিক পেলেও তাদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত মজুরি। কৃষকের লাভ লোকশান সবকিছু নির্ভর করবে ধানের বাজার মূল্যের উপর। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজার মূল্যে সন্তোষজনক হলে খরচ উঠবে। আর তা না হলে লোকসান গুনতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমে এবার জেলায় বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। যা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও মনে করেন তিনি।