‘খালেদার মুক্তি বা চিকিৎসার বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ নেই’

‘খালেদার মুক্তি বা চিকিৎসার বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ নেই’

নিউজডেস্ক২৪: কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের উপর আন্তর্জাতিক কোন চাপে নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তাছাড়া দেশের গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধীদল প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

আজ সোমবার সকালে ২৩বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে খালেদার বন্দিত্বের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উদ্বেগ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিএনপি তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, কিন্তু ডাক্তাররা তো কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করছে না। বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য উদ্বেগের পর্যায়ে আছে এটা আমাদের জানা নেই। মেডিকেল বোর্ডও এরকম কোনো তথ্য দিতে পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, “বেগম জিয়ার পক্ষে কিছু করতে পারেনি বলে বিএনপি নেতারা মুখ রক্ষার জন্য, কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নানা কথা বলছেন। বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা না উদ্বিগ্ন, তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতি করতেই তারা বেশি অভ্যস্থ এবং ব্যস্ত।

“বিএনপি বারবার বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে, বিদেশিরা কখনও বলেনি বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য খারাপ। তারা বলেছে, বন্দি অবস্থায় যেন ভালো চিকিৎসা হয়। ভালো চিকিৎসা তো হচ্ছে, ডাক্তারদের পক্ষ থেকে তো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

এসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করবে বলেও জানান তিনি।

দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৯ সালে। এই বছরের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হককে দলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দী। বন্দী অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ২৩ জুন রোববার সূর্যোদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সারাদেশের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৯টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন। বেলুন ও পায়রা অবমুক্ত। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে টুঙ্গীপাড়ায় কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। ২৪ জুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা ও তৃণমূলের প্রবীণ নেতাদের সম্মাননা প্রদান।

২৫ জুন মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরবর্তীতে হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণিকা, ক্রোড়পত্র এবং পোস্টার প্রকাশ। রাজধানীতে সীমিত আকারে সাজসজ্জা।

ওবায়দুল কাদের জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারাদেশের জেলা, উপজেলা, মহানগরে সভা সমাবেশ সেমিনার, র‌্যালি, স্মরণিকা প্রকাশ এবং রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

কর্মসূচি ঘোষণাকালে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত বায় নন্দি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।