‘প্রধানমন্ত্রীকে সবকিছু করতে হলে সচিবরা কেন আছেন’

‘প্রধানমন্ত্রীকে সবকিছু করতে হলে সচিবরা কেন আছেন’

নিউজডেস্ক২৪: যদি সবকিছুতেই প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, তাহলে সচিবরা কেন আছেন? বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

এময় আড়ংয়ের ঘটনা তুলে ধরে আদালত বলেন, আড়ংয়ে অভিযান পরিচালনাকারী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের কর্মকর্তাকে রাতের আঁধারে বন্ধের দিন যেভাবে বদলি করা হয়েছে, সেটা লজ্জার। যারা বদলি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ ছিল। এ ধরনের বদলির ফলে যারা সৎ অফিসার তারা কাজ করতে নিরুৎসাহিত হয়।

“বন্ধের মধ্যে বদলির এই আদেশ স্থগিতে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। যদি সবকিছুতেই প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, তাহলে সচিবরা কেন আছেন? তারা কি ওদের পকেটে ঢুকে গেছেন?”

এরপর দেশব্যাপী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার/ধংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেছেন।

এদিকে গত ৩ জুন এক ক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে আড়ংয়ের উত্তরা শাখায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামে ওই ক্রেতার অভিযোগ, গত ২৫ মে তিনি আড়ংয়ের উত্তরা শাখা থেকে ৭১৩ টাকায় একটি পাঞ্জাবি কিনেছিলেন। ৬ দিন পর ৩১ মে ওই একই পাঞ্জাবি কিনতে গিয়ে দেখেন, সেটির দাম ১৩০৫ টাকা। বেশি দামেই পাঞ্জাবিটি কিনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন তিনি। তার অভিযোগের ভিত্তিতে আড়ংয়ে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

এ ঘটনার পর মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলির আদেশ দিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, খুলনা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেয়ার আদেশ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে আবার তার বদলির এ আদেশ বাতিল করা হয়।