আফ্রিকাকে বিদায় করে সেমির আশা বাঁচালো পাকিস্তান

আফ্রিকাকে বিদায় করে সেমির আশা বাঁচালো পাকিস্তান

নিউজডেস্ক২৪: শোয়েব মালিকের টানা ব্যর্থতায় একাদশে ফেরার সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন হারিস সোহেল। খেললেন ৫৯ বলে ৮৯ রানের টর্নেডো ইনিংস। বিশ্বকাপে টিকে থাকার ম্যাচে তার ঝড়ো ব্যাটিংয়েই তিনশ’ ছাড়াল পাকিস্তান।

লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ফিফটিতে সাত উইকেটে ৩০৮ রান তোলে পাকিস্তান। হারিসের ইনিংসে পার্থক্য গড়ে দিল ম্যাচে। ৩০৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নয় উইকেটে ২৫৯ রান করতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।

একপেশে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৯ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে রইল পাকিস্তান। প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি এবার বিশ্বকাপে নিজেদের নামের পাশে থাকা ‘চোকার’ ট্যাগ সরাতে চেয়েছিলেন।

বিশ্বকাপে বারবার নকআউট পর্ব থেকে বাদ যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা ‘চোকার’ শব্দটা সরাতে ভিন্ন পন্থা বেছে নিল! এবার তাদের নকআউট পর্বেই ওঠা হল না। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেল প্রোটিয়ারা।

সমান ছয় ম্যাচে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পয়েন্ট পাঁচ করে। নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকায় বাংলাদেশ ছয় ও পাকিস্তান রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের সাত নম্বরে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজয়ের ব্যবধানটা ম্যাচ জুড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দেখানো অসহায়ত্ব বোঝাতে পারছে না। বড় রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে কখনই স্বস্তিতে ছিল না প্রোটিয়ারা। তাদের রুগ্ন ইনিংসের বাতিঘর বলতে ফাফ ডু প্লেসির হাফ সেঞ্চুরি (৬৩)।

শুরু থেকে অস্বস্তিতে থাকা কুইন্টন ডি কক শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৪৭ করে আউট হন। ৩০তম ওভারে ১৩৬ রান তুলতেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। তখনই হার দেখতে শুরু করে তারা।

শেষ দশ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ১২০ রান। হাতে ছিল পাঁচ উইকেট। তখনও ব্যাটিংয়ে ছিলেন ডেভিড মিলার, আন্দিলেন ফেলুকওয়ায়ো, ক্রিস মরিসরা। বিশ্বজুড়ে টি ২০ ক্রিকেটে ত্রাস সৃষ্টি করা এ নামগুলো থাকার কারণেই ধারাভাষ্যকাররা দক্ষিণ আফ্রিকাকে তখনও উড়িয়ে দিতে চায়নি।

তবে পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই যে তাদের একই চিত্র। সেখান থেকে বের হতে পারল না কালও। মিলারকে ৩১ রানে ফিরিয়ে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। পরপরই ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মরিস।

বিশ্বকাপের প্রথমে সুযোগ না পাওয়া পাকিস্তানের দুই বাঁ-হাতি পেসার প্রতি ম্যাচেই দারুণ প্রতিদান দিচ্ছেন। প্রতি ম্যাচেই আমির প্রথম স্পেলে উইকেট তুলে নিচ্ছেন। ডেথ ওভারে আমির ও ওয়াহাব হয়ে উঠছেন ভয়ঙ্কর।

এদিনও ওয়াহাবের ৯০ মাইল ছোঁয়া গতিতে রিভার্স সুইং দক্ষিণ আফ্রিকার টেল-এন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছিল। ফিল্ডাররা ক্যাচ মিসের মহড়া না দিলে ওয়াহাবের উইকেট তিনের জায়গা পাঁচ থাকত।

মাঝের ওভারগুলোতে শাদাব খান তিন উইকেট তুলে নিয়ে মিডলঅর্ডারে ধস নামিয়েছেন। আমির নিয়েছেন আমলা ও ডু প্লেসির উইকেট দুটি। শেষদিকে ফেলুকওয়ায়োর অপরাজিত ৪৬ রানে পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে।

পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার। মিডল অর্ডারে ৮০ বলে ৬৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে দলকে কক্ষপথে রাখেন বাবর আজম। শেষদিকে ঝড় তোলেন হারিস। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে শেষ ১০ ওভারে ৯১ রান তোলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা।

আগের পাঁচ ম্যাচের মাত্র একটিতে জেতা পাকিস্তানকে কাল জমাট সূচনা এনে দিয়েছিলেন ফখর জামান ও ইমাম-উল-হক। সাবলীল ব্যাটিংয়ে দু’জন গড়েন ৮১ রানের উদ্বোধনী জুটি।

দু’জনই ফেরেন ৪৪ রান করে। পেসাররা সুবিধা করতে না পারায় ১৫তম ওভারে স্পিনার ইমরান তাহিরকে আক্রমণে আনেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। ফখরকে ফিরিয়ে তাহিরই দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন।

পরে ইমামও ফেরেন তাহিরকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। অ্যালান ডোনাল্ডকে (৩৮) পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ডটি (৩৯) নিজের করে নিলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই লেগ-স্পিনার।

মোহাম্মদ হাফিজ ৩৩ বলে ২০ রান করে ফেরার পর পাকিস্তানকে এগিয়ে নেন বাবর ও হারিস। ৮১ রানের জুটি গড়েন তারা। ফিফটি করে বাবরের বিদায়ের পর ইমাদ ওয়াসিমের (২৩) সঙ্গে ৭১ রানের আরেকটি ঝড়ো জুটিতে দলকে তিনশ’ পার করান হারিস।

শেষ ওভারে আউট হওয়া হারিসের ৮৯ রানের ইনিংসটি সাজানো নয়টি চার ও তিনটি ছক্কায়। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে লুঙ্গি এনগিডি ৬৪ রানে নেন তিন উইকেট। আর তাহির ৪১ রানে নেন দুই উইকেট। প্রোটিয়া পেস আক্রমণের নেতা কাগিসো রাবাদা পাননি উইকেটের দেখা। উল্টো ১০ ওভারে গুনেছেন ৬৫ রান।