পুঁজিবাজারে ফের পতন, আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারে ফের পতন, আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা

নিউজডেস্ক২৪: পুঁজিবাজারে অব্যাহত পতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে অনেকটাই আতঙ্কিত। শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় অনেক কোম্পানির শেয়ার এখন অভিহিত মূল্যের নিচে। বিনিয়োগকারীদের বাজারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এমন পতন থেকে পুঁজিবাজারকে বের করে আনতে হবে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, মূল্য সমন্বয় করেই বর্তমানে মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ও খুব বেশি নেই। বিনিয়োগকারীরা সবসময় প্রত্যাশা করেন ঈদের সময় পুঁজিবাজার থেকে কিছু অর্থ উত্তোলন করতে। কিন্তু বর্তমানে পুঁজিবাজার যে অবস্থায় আছে, তা অব্যাহত থাকলে মুনাফা উত্তোলন তো নয়ই, বিনিয়োগ উত্তোলন করা সম্ভব হবে কি না, সেটি নিয়েই আতঙ্ক রয়েছে।

এদিকে গত সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই বছর সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৬৬ পয়েন্টে। যদিও লেনদেনের শুরুতে সূচক ১০০ পয়েন্টের বেশি পতন হয়। তবে লেনদেন শেষে কিছুটা পরিবর্তন হয়ে সূচকের পতন এসে দাঁড়িয়েছে ৬৭ পয়েন্ট। একই সঙ্গে কমেছে ডিএসইর অপর দুই সূচক। শরিয়া সূচক ১৮ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমেছে। ডিএসইতে ৩৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের দিনের তুলনায় যা ৪ কোটি টাকা কম। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২১৫ পয়েন্টে।

এক দিন বিরতি দিয়ে সোমবার আবার ডিএসই ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কোনো ব্যানার ছাড়াই বিনিয়োগকারীদের এদিন বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এ সময় বিনিয়োগকারীরা বলেন, পুঁজিবাজারের এমন পতন আরও দীর্ঘ হলে বিনিয়োগ অবশিষ্ট বলে কিছু থাকবে না। দ্রুত পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নে ব্যবস্থা গ্রহণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অনুরোধ জানান তারা।

অন্যদিকে পুঁজিবাজারের ক্রমাগত পতনে অভিহিত মূল্যের নিচে চলে আসা কোম্পানির সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে ৬৯টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হচ্ছে অভিহিত মূল্যের নিচে। তবে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বর্তমানে পুঁজিবাজারে ৩৭টি মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে।

এর মধ্যে ২৯টি মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হচ্ছে অভিহিত মূল্যের নিচে। পুঁজিবাজারে সবচেয়ে কম দামে লেনদেন হচ্ছে ইউনাইটেড এয়ারের শেয়ার। কোম্পানিটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই বছর আগে এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭ টাকায়। এরপর এ কোম্পানির শেয়ারের দর আর বাড়েনি। ক্রমেই কমেছে।

গত এক বছরের হিসাবে এ কোম্পানির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৪ টাকা। আর এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ দর ছিল ২ দশমিক ৫ টাকা। তবে ১১ জুলাই কোম্পানির শেয়ারদর ১ দশমিক ৯ টাকায় নেমে আসে। সর্বশেষ সোমবার তা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন দেড় টাকায় লেনদেন হয়েছে।