চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণ, আটক ১

চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণ, আটক ১

নিউজডেস্ক২৪: বাবা-মাকে পিটিয়ে আহত করে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মাদ্রাসাছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার দিবাগত রাতে আলমডাঙ্গার নতিডাঙ্গা আবাসন প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর নির্যাতিতার বাবা-মাকে অভিযোগ করতে থানায় যেতে দেয়নি ধর্ষকরা। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে নির্যাতিতা কিশোরীসহ তার বাবা-মাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার নতিডাঙ্গা আবাসন প্রকল্পে বসবাস করেন হতদরিদ্র আনারুল ও শিলা দম্পতি। তাদের একমাত্র মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত রাত সোয়া ১২টার দিকে একই আবাসনে বসবাসকারী জয়নালের ছেলে লাল্টু ওরফে মিন্টু, সভা ঘরামীর ছেলে শরিফুল ও মিলনের ছেলে রাজু আনারুলের ঘরে চড়াও হয়। তাদের ডাকাডাকিতে সাড়া না দিলে ইট দিয়ে আঘাত করে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়। উপায়ান্তর না পেয়ে দরজা খুলে দেন আনারুলের স্ত্রী। সে সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আনারুল ও তার স্ত্রীকে বেদম পিটিয়ে আহত করা হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে প্রাণে বাচতে আনারুল ও তার স্ত্রী ঘর থেকে ছুটে পালায়। তাদের কিশোরী মেয়ে ভয় পেয়ে বাথরুমে গিয়ে লুকায়। সে সময় ৩ হামলাকারি বাথরুম থেকে বের করে কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় নিমতলা গ্রামের বাধবাগানে। সেখানে তিনজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। সকালে আনারুল ও তার স্ত্রী ঘরে ফিরলে নির্যাতনের শিকার কিশোরী বাপ-মাকে সব খুলে বলে। বাপ-মা ওই নারকীয় ঘটনায় মামলা করতে চাইলেও বাড়ি থেকে তাদেরকে বের হতে দেয়নি ধর্ষকরা।

পরে এ ঘটনা জানতে পেরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ নির্যাতনের শিকার কিশোরীসহ তার মা-বাপকে উদ্ধার করেছে। পুলিশ আটক করেছে লাল্টু ওরফে মিন্টু নামের এক ধর্ষককে। কিশোরীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে থানা অফিসার ইনচার্জ মুন্সি আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন।