খালেদার জামিন আবেদন ফেরত নিলেন আইনজীবীরা

খালেদার জামিন আবেদন ফেরত নিলেন আইনজীবীরা

নিউজডেস্ক২৪: জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন ফেরত নিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

আজ বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিনের হাই কোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য তোলা হলেও বিচারকরা তাতে সাড়া না দিয়ে আপিল বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, “যেহেতু এ বিষিয়টি এর আগে হাই কোর্টের একটি জ্যেষ্ঠ বেঞ্চে শুনানি হয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সেহেতু বিষিয়টি এখন আপিল বিভাগে নিয়ে যেতে পারেন।”

খালেদার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন তখন বলেন, “বিষিয়টি এর আগে হাই কোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে শুনানি হলেও আপনাদের শুনতে কোনো বাধা নেই।”

এরপরও আদালত আবেদনের ওপর শুনানিতে রাজি না হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলেন, “তাহলে জামিন আবেদনটি আমরা ফেরত (টেক ব্যাক) নিচ্ছি।”

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানও শুনানির প্রস্তুতি নিয়ে আদালতে উপস্থিত থাকলেও তাদের শুনানি করতে হয়নি।

দুদকের আইনজীবী পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুনানির জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। অ্যাটর্নি জেনারেলও প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু কোর্ট নিজেই সন্তুষ্ট হতে পরেননি যে, তারা নতুন করে একটা মামলা আবার শুনতে পারবে, যেখানে একবার খারিজ হয়েছে অন মেরিট।

“হাই কোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে যেতে পারেন। সেই একই আবেদন আবার নতুন করে হাই কোর্ট শুনতে পারেন না। এ প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা রুলসটা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।”

এই আবেদন আবার অন্য কোনো বেঞ্চে তোলা হবে কি না জানতে চাইলে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, তারা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদাসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এ তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গত ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজ করে রায় দেয়।

কিন্তু খালেদার আইনজীবীরা সে খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে না গিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে হাই কোর্টে আবেদন করলে তাকে ‘নজিরবিহীন’ আখ্যায়িত করেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

শারীরিক অবস্থা, বয়স, সামাজিক অবস্থান, অপরাধের ধরণ- সবকিছু মিলিয়ে খালেদা জিয়া ‘জমিন পেতে পারেন’, এমন যুক্তি তুলে ধরে নতুন করে জামিন আবেদনটি করেন বিএনপিনেত্রীর আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত মিলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে দুটি মামলায় (জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) জামিন পেলেই খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলে তার আইনজীবীদের ভাষ্য।