‘আবরারের হত্যাকারী যেই হোক শাস্তি হবেই’

‘আবরারের হত্যাকারী যেই হোক শাস্তি হবেই’

নিউজডেস্ক২৪: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

সোমবার সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বলেন। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় সোমবার সকালে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহ সভাপতি ফুয়াদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে চকবাজার থানার ওসি সোহরাব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেখুন এটা আমি শুনেছি, এটা আমি জানি। একটু আগে পুলিশের আইজির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাকে বলেছি, আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টা আলাপ করতে পারেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝি, এখানে ভিন্নমতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার কারও নেই। কাজেই এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তদন্ত চলছে, তদন্তে যারাই অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, পারসোনালি আমি বলেছি- এখানে আমার কোনো ভিন্ন মত নেই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশ বিক্রিও তো বলে ফেলছে বিএনপি, তাই বলে বিএনপি নেতাদের কী আমরা মেরে ফেলব? কোনো আবেগ ও হুজুগে কারা (আবরার ফাহাদকে) হত্যা করেছে, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে এবং সেই তদন্ত চলছে।’

উল্লেখ্য, রোববার রাত আটটার দিকে আবরার ফাহাদসহ দ্বিতীয় বর্ষের ৭-৮ জন শিক্ষার্থীকে শের-ই-বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠান তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৭/৮ জন নেতা। তারা আবরার ফাহাদের মুঠোফোন ঘটে শিবির-সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ খোঁজেন। এক পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে তাকে পেটাতে শুরু করেন ছাত্রলীগের নেতারা। পরে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই কক্ষে গিয়ে আবরারকে আরেক দফায় পেটান। 

এর আগে রোববার দিনগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা থেকে ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও তার পরিবার বলছে, ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীরের পেছনে, বাম হাতে ও কোমর থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত আঘাতের কালো দাগ ছিল।