ওমর ফারুকের সব চেষ্টাই ব্যর্থ

ওমর ফারুকের সব চেষ্টাই ব্যর্থ

নিউজডেস্ক২৪: যুবলীগের আসন্ন সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে যুক্ত থাকার সুযোগ চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুকূল্য পেতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও লাভ হয়নি। ওমর ফারুককে ছাড়াই যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস সম্পন্ন করার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই দিয়ে রেখেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তাই আজ রবিবার (২০ অক্টোবর) বিকালে চেয়ারম্যানকে ছাড়াই সম্মেলন বিষয়ে বৈঠক করতে গণভবনে যাবেন যুবলীগের নেতারা।

সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, যে সংগঠনে টানা ১০ বছর ওমর ফারুক চৌধুরী ছিলেন হর্তাকর্তা, আজ তিনি সেই সংগঠনের কোথাও নেই। তার নীরব পতন হয়েছে। নেতারা বলছেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর গত প্রায় ১০ বছর একক কর্তৃত্বে সংগঠন চালিয়েছেন ওমর ফারুক। এমনকি যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে তিনি অনেকের সামনেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন। প্রায়ই সহকর্মীদের অকথ্য গালাগালি করতেন। এক নেতা এ বিষয়ে বলেন, অনেক নেতা এক সময় চেয়ারম্যানের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বললেও এভাবে গালাগালির কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। মান সম্মান বাঁচাতে অনেক নেতা শেষের দিকে যুবলীগ কার্যালয়ে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর যুবলীগ চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিতদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এবং অপকর্মে প্রশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, নৈতিক স্খলনের দায় নিয়ে নিজ থেকেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল ওমর ফারুক চৌধুরীর। তিনি পদ ধরে রাখায় সংগঠনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এখন তাকে বাইরে রেখেই যুবলীগের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে।

জানা গেছে, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে গণভবনে যাবেন। গত বুধবার হারুনুর রশীদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি চাইতে গেলে তিনি ওমর ফারুককে ছাড়া তাদের গণভবনে যেতে বলেন। এর আগে ওমর ফারুকের গণভবনে প্রবেশের স্থায়ী পাসও বাতিল করা হয়। সবশেষ ১১ অক্টোবর যুবলীগের সভাপতিম-লীর বৈঠক হলেও তাতে অংশ নেননি ওমর ফারুক। নেতাকর্মীদের ফোনও ধরছেন না তিনি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্য বলেন, চলমান দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে বিতর্কের মুখে পড়া যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে থাকতে পারছেন না। চেয়ারম্যানকে বাইরে রেখেই যুবলীগের কংগ্রেসের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে আজ। বৈঠকে যুবলীগের নেতা হওয়ার বয়স নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগের নেতা হওয়ার বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া হতে পারে অনূর্ধ্ব ৫০ বছর।

যুবলীগের সভাপতিমন্ডলীর তিন সদস্য জানান, রেওয়াজ অনুযায়ী যুবলীগের সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান। এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সভাপতিম-লীর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে কয়েকজন আগেও বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া কাউকে আহ্বায়ক করেও এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

ওই নেতারা আরও বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে বহিষ্কার করা হয় গত ৭ অক্টোবর। এখনও এ পদে ভারপ্রাপ্ত কাউকে দেওয়া হয়নি। যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান আনিসের খোঁজ নেই প্রায় এক মাস। ১১ অক্টোবর তাকে বহিষ্কার করা হলেও এ পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এসব বিষয়েও আলোচনা হবে গণভবনের বৈঠকে।

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর নিজেকে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে গুটিয়ে নেন ওমর ফারুক চৌধুরী। প্রায় এক মাস ধরে ধানম-ির নিজ বাসায় অনেকটা ‘নির্বাসিত’ জীবনযাপন করছেন। এখন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন যুবলীগেরই কয়েকজন নেতা।

এর আগে ৩ অক্টোবর ওমর ফারুকের ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার নামে থাকা সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, বিবরণীর তথ্য ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সরকারের অনুমতি ছাড়া তার বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ৬ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যেসব রাজনৈতিক নেতার নাম এসেছে, তাদের সবার বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে।