শিশুদের নিউমোনিয়া এড়াতে করনীয়!

শিশুদের নিউমোনিয়া এড়াতে করনীয়!

নিউজডেস্ক২৪: ফুসফুসের সংক্রমণজনিত একটি রোগ হল নিউমোনিয়া। এই রোগ সাধারণত ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণে হয়ে থাকে। তবে কখনও কখনও ফুসফুসে ছত্রাকের সংক্রমণের ফলেও নিউমোনিয়া হয়। অতিরিক্ত দূষণ এবং বুকে ঠাণ্ডা জমে সাধারণত শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তবে নিউমোনিয়া নিরাময় যোগ্য এবং প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। আগে থেকে সতর্ক থাকলে এই রোগ থেকে শিশুদেরকে রক্ষা করা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর নিউমোনিয়ায় মোট যত সংখ্যক রোগীর মৃত্যু হয় তার ১৫ শতাংশই হল শিশু। যাদের বয়স পাঁচ বছর বা তারও কম।  হু জানাচ্ছে, ভারত, পাকিস্তান, কঙ্গো, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়ার শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ২০১৮ সালে গোটা বিশ্বে নিউমোনিয়ায় আট লাখেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই পাঁচ দেশে। এদের বেশির ভাগের বয়স দু’বছরের মধ্যে।

নিউমোনিয়া রোগের একটি অন্যতম প্রধান কারণ হল ফুসফুসে ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি’ নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। শীতকালের অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের সামান্য ঠাণ্ডা লাগলেও নিউমোনিয়া হতে পারেন। সাধারণত শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যেই নিউমোনিয়ার প্রকোপ অধিক। তাই আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় এবং শীতকালে শিশুদেরকে নিউমোনিয়া থেকে বাঁচাতে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আগে শিশুদের মধ্যে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। এগুলো দেখে যদি চিকিৎসা নেওয়া যায় তবে শিশুদেরকে ভালো রাখা যাবে। 

নিউমোনিয়ার লক্ষণ

* নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হল জ্বর আর তার সঙ্গে অনর্গল খুসখুসে কাশি। এর পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের সমস্যাও থাকে। ফুসফুসে সংক্রমণ যত বাড়ে এই শ্বাসকষ্ট ততই বাড়তে থাকে।

* নিউমোনিয়ায় বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে বুকের ব্যথার ধরন একেবারে আলাদা। গভীর বা লম্বা শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে। মূলত ফুসফুসে সংক্রমণজনিত প্রদাহের ফলে এই ব্যথা হয়।

* নিউমোনিয়ায় মাথায় যন্ত্রণা, শরীর দুর্বল হয়ে পড়া, খাওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা, সারাক্ষণ বমি বমি ভাব ইত্যাদি একাধিক আনুষঙ্গিক সমস্যা দেখা দেয়।

নিউমোনিয়া প্রতিরোধের উপায়

*  নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সবার আগে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। জন্মের পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ পান করান। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

* শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে নিবেন। এতে রোগ-জীবাণুর বিস্তার কমে যায়।

* শিশুর সামনে কখনই ধূমপান করবেন না।

* ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখুন এবং রান্নার ধোঁয়া যাতে ঘরে আটকে না থাকে সে দিকে লক্ষ্য রাখুন।

* এক বছরের মধ্যে শিশুকে নিউমোনিয়ার টিকা দিন।

* শীতের পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের জুতা বা স্যান্ডেল পায়ে দেয়ার অভ্যাস করান। কারণ ঠাণ্ডা মাটি বা মেঝেতে হাঁটাহাটি করলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। আর ঠাণ্ডা মানে বিভিন্ন সমস্যা। 

* দূষণ ও ঠাণ্ডার সুরক্ষার পাশাপাশি অপুষ্টির হাত থেকে শিশুকে বাঁচাতে শাকসবজি, তাজা ফল, টাটকা মাছ খাওয়ার অভ্যাস করান। লক্ষ্য রাখবেন, খাবারে যেন যথেষ্ট পরিমাণে জিংক থাকে। এ জন্য শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে কচি মুরগির মাংস, পনির, মসুর ডাল, শিম, কর্নফ্লেক্স, চিঁড়া ইত্যাদি।