রাতে মুখোমুখি রিয়াল-বার্সেলোনা

রাতে মুখোমুখি রিয়াল-বার্সেলোনা

নিউজডেস্ক২৪: দুই দলেরই ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট। কিন্তু গোল পার্থক্যে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। দুইয়ে রিয়েল মাদ্রিদ। লা লিগায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবার আমনে সামনে। আজ রাতে ক্যাম্প ন্যুতে মহারণ। চলতি লা লিগায় বার্সা, রিয়াল পরস্পরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। ফলে মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোয় যারা জিতবে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে তারাই এগিয়ে যাবে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হবে এল ক্ল্যাসিকো ম্যাচটি।

গতবার ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনা ৫–১ ব্যবধানে হারিয়েছিল রিয়ালকে। বুধবার রাতে ঘরের মাঠে নামার আগে যা উজ্জীবিত করতে পারে আর্নেস্তো ভালভার্দের দলকে। কিন্তু বার্সার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি মনে করেন, ক্যাম্প ন্যু নয়, চিরশত্রুর ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই রিয়ালের মোকাবিলা করা অপেক্ষাকৃত সহজ।

এল ক্লাসিকোর আগে ‘‌মার্কা’‌কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন, ‘‌আমরা যখন বার্নাব্যুতে খেলি, তখন অনেক বেশি জায়গা তৈরি হয়। কারণ তখন ওরা অনেক বেশি আক্রমণ করে। ঘরের মাঠে খেলা বলে একটা বাধ্যবাধকতা থাকে ওদের মধ্যে। ওদের সমর্থকদের জন্যই এটা হয়। কিন্তু ক্যাম্প ন্যুয়ে ওদের খেলার ধরন পাল্টে যায়। প্লেয়াররা একসঙ্গে আমাদের আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করে এবং পাল্টা আক্রমণে যায়। মনে রাখতে হবে ওদের আক্রমণে যারা আছে, তারা অতি দ্রুত দৌঁড়াতে পারে। বার্নাব্যুতে খেলা হলে ৯০ মিনিট লড়াই হয় সমানে সমানে। কিন্তু এখানে (‌ক্যাম্প ন্যু)‌ ওদের বিরুদ্ধে খেলা বেশ জটিল হয়ে ওঠে।’‌

চলতি মৌসুমের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থা ছিল ছন্নছাড়া। দলের খেলা একেবারেই জমাট বাঁধছিল না। বারবার সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছিলেন রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান। কিন্তু রিয়েলকে ঈর্ষণীয় সাফল্য এনে দেওয়া জিদানের এমন সমালোচনা কি প্রাপ্য ছিল?‌

মেসি জানিয়েছেন, তিনিও অবাক হয়েছিলেন জিদানের সমালোচনা শুনে। কিন্তু এটাও বলেছেন, ‘‌আমরা যারা দীর্ঘ সময় ধরে (‌ফুটবলে)‌ আছি, বিশেষ করে বড় ক্লাবে, জানি এটাই স্বাভাবিক। আগে কী ঘটেছে, অতীতে কী সাফল্য পেয়েছে মানুষ খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যায়। বরং দিন দিন আরও সাফল্য দাবি করে। জিদান যখন (‌দ্বিতীয়বার কোচিংয়ে)‌ ফিরে এসেছিলেন, তখনও সবাই জানত যে উনি তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তবু তিনি আরও সাফল্য এনে দেবেন, প্রথম দিন থেকে এমন আশাই ছিল জিদানকে ঘিরে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, বড় দলের কোচ এবং প্লেয়ারদের ক্রমাগত স্পটলাইটে থাকতে হয়। চাপ নিয়ে খেলতে হয়।’‌

এল ক্ল্যাসিকো মানেই মেসি বনাম রোনালদো দ্বৈরথ। গত কয়েক বছরের এই ছবিটা আর নেই। রিয়েল ছেড়ে জুভেন্টাসে চলে গিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। সেই শূন্যস্থান পূরণে রিয়েল পরে দলে নিয়েছে বেলজিয়ামের তারকা ইডেন হ্যাজার্ডকে। যদিও মেসি মনে করছেন রোনালদোর জায়গা নেওয়া খুব কঠিন কাজ।

মেসির মন্তব্য, ‘‌হ্যাজার্ড খুবই উন্নতমানের ফুটবলার। দক্ষও। যে রক্ষণকে বিভ্রান্ত করতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি ক্রিশ্চিয়ানোর থেকে ও আলাদা ফুটবলার। আলাদা চরিত্র। ক্রিশ্চিয়ানোর জায়গা নেওয়া খুব কঠিন। যদিও হ্যাজার্ড বড় ফুটবলার।’‌

হ্যাজার্ডকে অবশ্য বার্সার বিরুদ্ধে মহারণে পাচ্ছেন না কোচ জিদান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি–র বিরুদ্ধে ম্যাচে গোঁড়ালিতে চোট পেয়ে তিনি আপাতত মাঠের বাইরে। ফলে রিয়াল অনেকটাই নির্ভর করবে ছন্দে থাকা করিম বেনজেমার ওপর। অন্য দিকে রিয়েলের ওপর আঘাত হানতে মেসির সঙ্গে তৈরি সুয়ারেজ ও গ্রিজম্যান।