ইউক্রেনের বিমানকে ভূপাতিত করেছিল ইরান

ইউক্রেনের বিমানকে ভূপাতিত করেছিল ইরান

নিউজডেস্ক২৪: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছিল বলেই ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটি ৮ জানুয়ারি তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে ওঠার পরপরই বিধ্বস্ত হয়েছে- এরকমই মনে করছেন পাশ্চাত্য দেশগুলোর নেতারা।

বিধ্বস্ত হওয়ায় বিমানটির ১৭৬ আরোহীর সবাই মারা যান। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল জানান, ইরান ‘ভুলবশত’ ওই বিমানে হামলা চালিয়েছিল। কানাডা ও ব্রিটেনের নেতারা ঘটনার পুনঃতদন্ত দাবি করেছেন। ইরান অবশ্য বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে নিঃশর্ত শান্তি আলোচনায় বসবার যে প্রস্তাব দেন ইরান তাতে সাড়া দেয়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও তার দেশ সেনা সরাবে না। নতুন করে আর

হামলার হুমকি না দেওয়ায় ইরান ও ইরাকে তুর্কি এয়ারলাইনস ‘পেগাসাস’ তার ফ্লাইট ফের শুরু করবে বলে ঘোষণা করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা কমাতে প্রতিনিধি পরিষদ (কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ) বিল পাস করেছে।

ট্রাম্পকে ঠেকাতে বিল: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ চালানো বিষয়ক ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে প্রতিনিধি পরিষদে ২২০-১৯৪ ভোটে একটি বিল পাস হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কংগ্রেস থেকে পরবর্তীতে কোনো অনুমোদন না পেলে প্রেসিডেন্টকে ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে এই প্রস্তাবনা রিপাবলিকান সংখ্যাধিক্যের সিনেটে পাস হওয়া বেশ কঠিন হবে।

ভিডিও প্রকাশ: নিউইয়র্ক টাইমসের প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, কোনো একটা বস্তুর আঘাতে ইউক্রেনীয় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুুডো বলেছেন, ‘বেশ কিছু গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য রয়েছে, যা এই আভাস দিচ্ছে যে তেহরান থেকে উড্ডয়নের পরেই ইউক্রেনের বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান।’ ইরানের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এটি বিধ্বস্ত হয়। এক বিবৃতিতে ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী বলেন, এসব প্রতিবেদন ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ব্ল্যাকবক্স যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা বোয়িংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে না জানিয়েছে তেহরান।

জেনে যায় যুক্তরাষ্ট্র: বাগদাদে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তার খবর আগেই জেনে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বেশ কিছু ঊর্ধ্বতন সামরিক ও হোয়াইট হাউস কর্মকর্তার বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট এই খবর দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হামলার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই আমরা জানতাম এবং ইরাকিরাও আমাদের এ সম্পর্কে বলেছিল। মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি থেকে সরিয়ে সুরক্ষিত বাঙ্কারে স্থানান্তরিত করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিল।’ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর পাওয়ার পর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (প্রতিরক্ষা প্রধান) জেনারেল মার্ক মিলে ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার।

৫ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র: ইরাকে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ‘ফতেহ-৩১৩’ এবং ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান। ইরানের আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ বলেন, ‘আমরা ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র মেরেছি। তবে আমরা প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম উভয় পক্ষ সংযম না দেখালে যুদ্ধ সীমিত পর্যায়ে তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ চলবে। তাই, আমরা কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রেখেছিলাম।’