219 আস্ত হরিণ হজম করতে না পেরে প্রাণ গেল অজগরের

রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

আস্ত হরিণ হজম করতে না পেরে প্রাণ গেল অজগরের

আস্ত হরিণ হজম করতে না পেরে প্রাণ গেল অজগরের

নিউজডেস্ক২৪: হরিণ খেয়ে অজগরটি নড়াচড়া করতে না পারায় কয়েক দিন ধরে জঙ্গলের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। নিজের দেহের তুলনায় অনেক বড় মাপের হরিণ খাওয়ার ফলেই এই বিপত্তি।

ক্ষুধার তাড়নায় আস্ত একটি হরিণ গিলে ফেলেছিল অজগর সাপটি। আর এতে চলে গেল প্রাণ। মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে পশ্চিমবঙ্গে ডুয়ার্সের জঙ্গলে এ ঘটনা ঘটে। জঙ্গলে একটি চিতল হরিণ ধরে খেয়েছিল প্রায় ১৫ ফুটের মতো লম্বা অজগরটি। নিজের শরীরের চেয়ে কয়েক গুণ বড় ওই হরিণটিকে খাওয়ার পর আর নড়তে পারেনি। তার পরে পেট ফুলে যায় তার। ওই অবস্থায় কয়েক দিন একই জায়গায় পড়ে থাকার পর সোমবার রাতে মৃত্যু হয় অজগরটির। বন দপ্তর ময়নাতদন্তের জন্য অজগরের পেট কাটলে গিলে ফেলা হরিণের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বানি হোসেন জানান, গত দুই দিনে বহু মানুষ মৃতপ্রায় অজগরটিকে দেখতে খয়েরবাড়ির জঙ্গলে ভিড় জমিয়েছেন। অনেক ছবি তোলা হয়েছে। কিন্তু বন দপ্তরের পক্ষ থেকে অজগরের চিকিৎসার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

ওই অজগরটি এর আগেও লোকালয়ের কাছে এসে হাঁস-মুরগি খেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

পশ্চিমবঙ্গের মাদারিহাটের রেঞ্জার এম কার্তিকেয়ন বলেন, ‌“হরিণ খেয়ে অজগরটি নড়াচড়া করতে না পারায় কয়েক দিন ধরে জঙ্গলের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। নিজের দেহের তুলনায় অনেক বড় মাপের হরিণ খাওয়ার ফলেই এই বিপত্তি।”

সাপ বিশেষজ্ঞ মিন্টু চৌধুরী বলেন, “সম্ভবত অজগরটি দীর্ঘ দিন না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত থাকায় হরিণটিকে দেখে ধরে ফেলে এবং গিলে খেয়ে নেয়। কিন্তু শারীরিক দুর্বলতার কারণে বড় মাপের হরিণটি গিলে ফেলেও শেষ পর্যন্ত হজম করতে পারেনি। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অজগরটির মৃত্যু হয়েছে।”