ঘুরে আসুন স্বপ্নের দেশ সিঙ্গাপুরে!

ঘুরে আসুন স্বপ্নের দেশ সিঙ্গাপুরে!

নিউজডেস্ক২৪: একঘেয়ে  জীবনযাত্রায় মানুষ  যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন তার অন্তত কিছু সময়ের জন্য একটু আরাম, একটু বিরাম,একটু শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন সৃষ্টিকর্তার অপরময় সৃষ্টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে বা দূরে কোথাও।

ভ্রমণ করে না অথবা করতে চায় না এমন মানুষ এই দুনিয়ায় পাওয়া বড় দুষ্কর। একজন পর্যটক হিসেবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সারা বিশ্ব। দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চান? তবে  ঘুরে আসতে পারেন সিঙ্গাপুর।

সিঙ্গাপুরের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে খুব দূরে নয়। একটু গুছিয়ে একটা শর্ট ট্রিপ দিয়ে আসতে চাইলে সিঙ্গাপুরের কথা ভাবতে পারেন। পারিবারিক ট্যুর বা বন্ধুদের সাথে মজা করে সময় কাটাতে সিঙ্গাপুর হতে পারে আদর্শ পছন্দ। আসুন জেনে নিই, কোথায় বেড়াবেন সিঙ্গাপুরে।

১. জুরং পাখির পার্ক

আরও পড়ুনঃ প্রকৃতির বিস্ময়কর সৌন্দার্য্যের আরেক নাম ‘নায়াগ্রা জলপ্রপাত’!

এশিয়া প্যাসিফিকে সবচেয়ে বিশাল হল জুরং পার্কটি। একেবারেই প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা পার্কটি সিঙ্গাপুর ভ্রমণে আপনার তালিকার ১ নম্বরে থাকতে পারে। ৪৯ টি বিভাগে বিভক্ত এই পার্কে ৩৮০ প্রজাতির ৫০০০ এরও বেশী পাখির বাস।

আভাইরি জলপ্রপাত এই বিনোদন কেন্দ্রের সবচেয়ে ভয়ংকর পরিসীমা যেখানে ভূমি ৫ ভাগে বিভক্ত আর ১৫০০ আফ্রিকান পাখির বাস। আরও আছে ১০০ ফুট উঁচু কৃত্রিম জলপ্রপাত। পায়ে হেটে বেড়াতে না চাইলে আপনি ক্যাবল কার এ চড়েও পার্কটির জীব বৈচিত্র উপভোগ করতে পারেন।

এরপর যেতে পারেন দক্ষিণ-পূর্ব অ্যাভিয়ারিতে। এখানে আছে ২৬০ রকমের বন্য পাখীর সমাহার। এখানের জঙ্গলে আপনি বেড়াতে পারবেন, দেখতে পারবেন হামিং বার্ডসহ আফ্রিকান নানান পাখি।

২. সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখনা এবং নদী সাফারি

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের অন্যতম ১০টি দর্শনীয় স্থান!

১৯৬০ সালে, ব্রিটিশরা যখন সিঙ্গাপুর ছেড়ে যায় তখন তারা তাদের পোষা প্রাণীগুলো রেখে যায় এখানেই। ৬৯ ভাগে বিভক্ত সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হয় ১৯৭৩ সালে। এখানে বর্তমানে ৩০০ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এরমধ্যে আছে বাঘ, ওরাংওটাং, গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের খুব বড়ো আকারের গিরগিটির মত দেখতে কমোডো ড্রাগন, সিংহসহ বিপন্ন প্রজাতির আরও প্রাণী।

এখানেও ক্যাবল কার এ চড়ে বেড়াতে পারবেন আপনি। শুধু কিছু বাড়তি চার্জ যোগ হবে। জলজ সাফারি এই পার্কের বাড়তি পাওয়া। এটি খোলা হয় ২০১৩ সালে। বিনোদন কেন্দ্রটি কয়েকটি জোনে বিভক্ত। যেমন- মিসিসিপি, কঙ্গো, নাইল, গেংগারস, মুরে, মেকং এবং ইয়াংটজ। এখানে আরও দেখবেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় পান্ডা শো।

৩. সিঙ্গাপুর বোটানিক গার্ডেন

আরও পড়ুনঃ রহস্যে ঘেরা প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য!

১৮২২ সালে স্যার স্ট্যাম্ফোর্ড রেফলস বোটানিক গার্ডেন তৈরি করেন সরকারি পাহাড়ি জমিতে। পরে ১৮৫৯ সালে সেটি বর্তমান অবস্থানে আসে। বছরের পর বছর গড়িয়ে এখানকার গ্রীন হাউজ এখন সুবিশাল এবং সাজানো-গোছানো। গার্ডেনটি সম্প্রতি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটিই সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বেশী পর্যটক প্রিয় জায়গা। এখানে বিশাল সুদৃশ্য প্রান্তীয় অর্কিডের বাগান দেখতে পাবেন আপনি। এর মধ্যে ১০০০ প্রজাতির অর্কিড আছে।

৪. সেন্তোসা

আরও পড়ুনঃ সেতুর উপরে বাড়ি: যে স্থাপত্য শিল্প মুগ্ধ করবে আপনাকেও!

সেন্তোসা সিঙ্গাপুরের দক্ষিণে অবস্থিত এবং বিখ্যাত বিনোদনমূলক সমুদ্রাভিমুখ দ্বীপ। এখন সেন্তোসা একটি বিশ্রামের জায়গা। এখানে আছে অনেক গ্যালারী, চমকপ্রদ দৃশ্যাবলী, এমিউজমেন্ট পার্ক, প্রাকৃতিক ট্রায়ালসমূহ ইত্যাদি। এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল। সহজেই একটি গাড়ি নিয়ে দর্শনীয় জায়গাগুলো একবারে দেখে আসতে পারবেন আপনি।

ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একপ্রকার স্বর্গ। সিঙ্গাপুরের পর্যটন ব্যবসায়ও এর অবদান অনেক। বিভিন্ন রকম চমৎকার রিসোর্ট, ওয়াটার পার্ক, ইউনিভার্সাল স্টুডিও, ক্লাব হাউজ ইত্যাদি আয়োজন আপনাকে মুগ্ধ করবে। সবচেয়ে চমৎকার হল সিসোলো বীচের অভিজ্ঞতা। ইন্ডোর স্কাই ডাইভিং করতে পারবেন এখানে।

৫. এসপ্লান্ডে পার্ক

এসপ্লান্ডে পার্কের খোলামেলা পরিবেশ যে কোন পর্যটককে আকর্ষণ করে। এখানে আছে তান কিম সেং ঝর্ণা যা সিঙ্গাপুরের মূল পানির সরবরাহ নিশ্চিত করে। এখানে বিনোদন কেন্দ্রের শেষে তৈরি করা হয়েছে লিম বো সেং মেমোরিয়াল। এখানে আরও দেখার আছে চমৎকার একটি কমপ্লেক্স যা নকশা করেছেন ব্রিটিশ ড্রাফটস্ম্যান মাইকেল উইলফোর্ড। খোলা আকাশের নীচের এই থিয়েটার, সাথে প্রদর্শনীর জায়গা, পাঠাগার এবং শপিং সেন্টার সব মিলিয়ে এটি যেন একটি প্যাকেজ।