একজন বৃদ্ধা মা

একজন বৃদ্ধা মা

নিউজডেস্ক২৪: আমি যে কাহিনি বলবো, এটা কাল্পনিক কোনো গল্প না। নিজের চোখে দেখা একটি ঘটনা। দিদাকে আমি খুব ভালোবাসতাম, তাঁর কাছেই রাতে ঘুমাতাম। সে সুবাদে যারাই দিদার কাছে আসতো আমি তখন পাশেই থাকতাম। আর অনেকের অনেক ঘটনার সাক্ষী ও ছিলাম। মূল কথায় আসি।


পাশের বাড়ীর এক বৃদ্ধা মহিলা প্রাই আসতো আমাদের বাসায়। এসে আমার দাদির কাছে বসে কান্না করতো। সে খুবই বৃদ্ধা ছিলো, বয়স অনুমানিক ৮৫, ৯০ হবে। লাঠিতে ভর করে আসতো।সে আমার দিদাকে মা ঢেকেছিলো। তাঁর মেয়ে ছিলো কিনা জানিনা তবে ছেলে ছিলো ৪টা, এর মধ্যে বড় ছেলে এলাকার মেম্বার ছিলো। দিদার মুখে শুনেছিলাম যে এ বৃদ্ধা মহিলা ৪টা সন্তান হওয়ার পরই বিধবা হন। খুব কষ্ট করেই ছেলেদের মুটামুটি পড়ালিখা করান। মানুষের বাড়ি গিয়ে ভাতের মার চেয়ে এনে খাওয়াতেন ছেলেদের। আর নিজে না খেয়ে থাকতেন। কখনো খুব খুদা লাগলে আমাদের বাসায় চলে আসতো আমার দিদা তার মুখ দেখে বুঝতে পারতেন যে সে ক্ষুধার্ত। দিদা তাকে পেট ভরে খাওয়াতো। সে খেতে চাইতো না। দিদা জোর করেই খাওয়াতো। একটা সময় তার ছেলেরা বড় হয় সবাইকে বিয়ে করায়। আর বৃদ্ধার দুঃখের দিন শুরু হলো।


আমি ছোট ছিলাম কিন্তু মনে আছে আজ ও যে সে দিন সে বৃদ্ধা সারা মুখ কালি মাখা অবস্থায় আসে আর সে তখন হাউমাউ করে কাঁদতেছিলো। আম্মু দিদা তাকে রুমে বসায় কি হয়েছে জানতে চায়। আমি ছোট থাকায় তাকে দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে আম্মুর আচলের পিছনে লুকাই। সে বৃদ্ধার কান্না কিছুতেই থামছিলো না। এক সময় কান্না থামিয়ে বলতে থাকে সে দুধ জোগাড় করেছিল আধা কেজি। ছেলের বৌরা রান্না করার পরে সে চুলায় তিনি তার দুধের পাতিলটা বসিয়ে রাখতেন। যখন দুধ ঘন হয়ে আসতো তখন এনে তা দিয়ে ভাত খেতেন। সে পাতলা দুধ খেতে পারতো না। কয়েকদিন এভাবে যাবার পর একদিন দেখ যে দুধ খুব পাতলা পানি পানি লাগে দুদের উপর সরটা ও জমেনা। রোজ একি ঘটনা হচ্ছে। কে জেনো তার পাতিল থেকে তার দুধ সরিয়ে অল্প কিছু রেখে বাকিটাতে পানি ডেলে রাখে। তো সে ওৎ পেতে থাকে কে এটা করে তা দেখার জন্য আর পেয়ে ও যায়। তার এক ছেলে বৌ এ কাজ করছে রোজ। বৃদ্ধা বৌ কে বলে যে মা কেন এমন করো? আমি বৃদ্ধা হয়েছি ঘুখের স্বাদ চলে গেছে কিছুই খেতে পারি না। কেন এমন করো? ছেলের বৌ তখন মহিলাকে অনেক কথা শুনায় পরে ছেলে ও এসে মাকে অনেক কথা শুনায় পরে তার বৌ কে বলে যাও দুধের পাতিল টা নিয়া আসো আর সাথে একটা আয়না ও নিয়ে এসো। তার বৌ সব নিয়ে আসে। তার পর তার ছেলে তার বৌ কে বলে আয়নাটা মার মুখে ধরতে আর তার ছেলে ঐ কালি ওয়ালা পাতিলটা নিয়ে বৃদ্ধ মার সারা মুঘে গসে গসে লাগায় আর বলে দেখো মা কি সুন্দর লাগছে তোমাকে দেখতে ?

মা সেদিন কিছু বলতে পারেনি কিন্তু অনেক কেঁদেছিলো। যে সন্তান কে সে এতো কষ্ট করে লালন পালন করেছে সে সন্তান ই কি এ? এটা তার ৩নং ছেলে। আম্মু দিদা সেদিন কি বলে তাকে সান্তনা দিয়েছিল তা মনে নেই, তবে মনে আছে বলেছিল আপনার আর বাসায় যেতে হবে না। আমাদের এখানেই থেকে যান। সেদিন সে বৃদ্ধা যা বলেছিল আমি তা ভাবতেও পারিনি। সে বলেছিল না মা আমি এখানে থাকলে আমার ছেলেদের বদনাম হবে লোকে ওদের মন্দ বলবে। আমি এখানে থাকতে পারবো না। আম্মু শেষে পুকুরে নিয়ে তার মুখের কালি গুলো সব ধুয়ে দেয়। মাথায় তেল দিয়ে চুল বেধে দেয়।

এর পরে এক দিন আবার আসে।সে দিনের ঘটনা ছিলো আরে ভায়াবহ। সে আজ আর নেই। চেলে গেছে না ফেরার দেশে। আল্লাহ্ তাকে জান্নাতি হিসেবে কবুল করুক। দুনিয়ার কষ্টের প্রতিদান যেন জান্নাতে দান করেন।
(আমিন)


আমরা ভুলেই যাই যে মা আমাদের জান্নাত ও জাহান্নামে যাওয়ার কারন। তা নির্ভর করবে আমাদের আচরণে।