বয়স ১০৪, সেচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে দেশ ছাড়লেন বিজ্ঞানী

বয়স ১০৪, সেচ্ছামৃত্যু বেছে নিতে দেশ ছাড়লেন বিজ্ঞানী

নিউজডেস্ক২৪: দীর্ঘ জীবন সবার কাছেই অনেক প্রত্যাশিত। দীর্ঘ জীবন লাভের আশায় মানুষ কত কিছুই না করে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন থেকে শুরু করে অনেক কিছুই থাকে সে প্রচেষ্টার মধ্যে। কিন্তু মানুষ যদি বহু বছর বেঁচে থাকে, তা হলে নিজেই কি মৃত্যু কামনা করে?

দীর্ঘ জীবন থেকেও অনেকে পরিত্রাণ পেতে চান? সে রকম একজন হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী ডেভিড গুডঅল। স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য দেশ ছেড়েছেন ১০৪ বছর বয়সী বিজ্ঞানী। তবে তিনি কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে মরতে চাচ্ছেন না। বয়সের কারণে শরীর ভেঙে যাচ্ছে তাই বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছাই আর কাজ করছে না তার।

১০৪তম জন্মদিনে তার ইচ্ছা একটাই, তিনি মরতে চান। স্বেচ্ছামৃত্যুকে বরণ করে নিতে তাই দেশ ছেড়ে সুইজারল্যান্ডের পথে পাড়ি দিলেন পরিবেশ ও উদ্ভিদবিদ ডেভিড গুডঅল। আগামী ১০ মে সেখানে একটি ক্লিনিকে স্বেচ্ছামৃত্য বরণ করবেন তিনি।

ডেভিড জানিয়েছেন, তার বড় ধরনের কোনো অসুখ নেই। কিন্তু শরীর ভেঙে যাচ্ছে। জীবন দুঃসহ লাগে। এভাবে বাঁচতে চান না কারণ তিনি খুবই কষ্ট পাচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় স্বেচ্ছামৃত্যু নিষিদ্ধ। তারপরেও বাড়িতে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ডেভিড। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার আচরণ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তারপরই পরিবার ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

স্বেচ্ছামৃত্যুকে সমর্থন করে এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে সেখানে যাচ্ছেন ডেভিড। ২০ বছর ধরে ওই সংস্থার সদস্য তিনি। বিমানে বিজনেস ক্লাসের টিকিটের অর্থ দিয়েছেন তার শুভানুধ্যায়ীরা।

১৯১৪ সালের এপ্রিলে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগে লন্ডনে জন্ম হয় ডেভিডের। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। ডেভিড বলেন, এই বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি মোটেও সুখী না। আমি মরতে চাই।

১৯৭৯ সালে তিনি পূর্ণকালীন কাজ থেকে অবসর নেন। কিন্তু এর পরও তিনি মাঠপর্যায়ের গবেষণার সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা বেতনে গবেষণা করতেন।

তার বয়স বেশি হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বলেছিল- বাসায় বসে কাজ করার জন্য।

কিন্তু গুডঅল ১০২ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলার রায় তার পক্ষে আসে।

এখন চলাচল সীমিত হয়ে গেছে তার। এমন অবস্থায় বেঁচে থাকার কোনো অর্থ খুঁজে পান না তিনি।