ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ০৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মহররম ১৪৪০

জেনে নিন যে কারণে নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চলের মানুষকে খারাপ বলে!

জেনে নিন যে কারণে নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চলের মানুষকে খারাপ বলে!

নিউজডেস্ক২৪: আজ থেকে অনেক অনেক দিন আগে প্রায় ১২৫০ সালের দিকে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কিছু অঞ্চলের শাসক যারা ছিলেন তারা নিজস্ব আইনকানুনের মাধ্যমেই শাসন কার্য পরিচালনা করতেন। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আইনবিদ শ্রী দীনেশ চন্দ্র এর বই থেকে জানা যায় তৎকালিন শাসন ব্যবস্থায় অপরাধের দন্ড ছিল পাঁচ প্রকার-

১। বেত্রাঘাত

২। অর্থদন্ড

৩। কারাদন্ড

৪। মৃত্যুদন্ড এবং

৫। দীপান্তর বা বনবাসে প্রেরণ।

বর্তমান বাংলাদেশে ১। অর্থদন্ড ২। কারাদন্ড ও ৩। মৃত্যুদন্ডের প্রচলন থাকলেও বেত্রাঘাত এবং দীপান্তর বা বনবাসে প্রেরণের মতো দন্ডের বিলুপ্তি ঘটেছে অবশ্য উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই ‘মৃত্যুদন্ড’রও বিলুপ্তি ঘটেছে। দীপান্তর বা বনবাসে প্রেরণের এই দন্ড ব্রিটিশ শাসন আমল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। ব্রিটিশ শাসন আমল পর্যন্ত ভয়ংকর আসামী বা রাষ্ট্রদ্রোহীদের আন্দামান দীপপুঞ্জে অবসি’ত কারাগারে প্রেরণ করা হতো।

আন্দামানের ঐ কারাগারটি ব্রিটিশ শাসনের অবসান হওয়ার পর স্বাধীন ভারত সরকারও কিছুদিন ব্যাবহার করেছে। ঐতিহাসিক স্থান হিসাবে কারাগারটি এখনো বিদ্যমান। আমার আলোচনাটা এখানে নয়।

আমার আলোচনা- তৎকালিন বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের এই সব অঞ্চলের শাসকগণ দীপান্তর বা বনবাসের প্রেরণ করতেন কিন্তু সেই দীপ বা বনটি কোথায়? শ্রী জ্যতীষ নারায়ণ বাগচীর ‘বঙ্গ ও বাংলার আইন এবং ইতিহাস’ নামের পুস্তক থেকে জানা যায় সেই সময়ে নোয়াখালী, কুতুবদিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী ইত্যাদি অঞ্চলে কোন মানুষ বসবাস করতো না।

এগুলি ছিল দীপ অঞ্চল (অবশ্য বর্তমানেও দীপ অঞ্চল)। মানুষের বসবাস বা চলাফেরার মতো কোন রাস্তা-ঘাট বা ব্রিজ-কার্লভার্টও ছিল না। দীপগুলিতে ছিল গহীন জঙ্গল ও ভয়ানক সব প্রাণী।

তৎকালীন শাসকরা ভয়ানক সব আসামীদের এইসব অঞ্চলে বড় বড় জাহাজের মতো নৌকায় এনে শাস্তি হিসাবে মাত্র কয়েক দিনের খাবার ও প্রয়োজনিয় কিছু দ্রব্যাদি দিয়ে ছেড়ে দিতেন। সেই সব অপরাধিরা হিংস্র প্রাণী সাথে লড়াই করে অনেকেই বেঁচে থাকতো অনেকেই প্রাণ হারাতো। যারা বেঁচে থাকতো তাদের ফিরে আসার কোন উপায় থাকতো না কারন ডাকাতি হওয়ার ভয়ে ঐ অঞ্চল দিয়ে কোন নৌকা বা জাহাজও কেউ চালাতো না। দিনে দিনে ঐসব দীপে অপরাধিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং এভাবেই অপরাধিরা মিলে নোয়াখালি ও বরিশাল অঞ্চলে গড়ে তোলে সভ্যতা।

এই সভ্যতার শুরুর দিকে নৌকা বা জাহাজ ডাকাতি, লুটপাট ও খুন-খারাপিই ছিল ঐ অঞ্চলের সর্বত্র।

বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মানুষরা তাই বহু প্রাচীন কাল থেকেই নোয়াখালি ও বরিশাল অঞ্চলের মানুষদের অপরাধিদের উত্তরাধিকার হিসাবে ধারণা করতো। মানুষের দেহে অবস্থিত ক্রমোজম হচ্ছে তার বংশগতির ধারক-বাহক, তাই অনেকের মতে নোয়াখালি ও বরিশাল অঞ্চলের মানুষের ক্রমোজমে এখনও সেই অপরাধি স্বভাব বিদ্যমান!

প্রকৃত বাস্তবতা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সার্জেন্ট জহুরুল হক আবদুল মালেক উকিল আনিসুল হক (রাজনীতিবিদ) জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক,  আবুল কাশেম ফজলুল হক শের-এ-বাংলা ,রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস হানিফ সংকেত ,স্পীকার আঃ জব্বার খান স্পীকার আব্দুল ওহাব খান আগা বাকের খান আলহাজ্ব শওকত হোসেন হিরন সাবেক মেয়র চিত্রশিল্পী মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা চিত্রশিল্পী মাসুম পারভেজ রুবেল কলামিস্ট সাদেক খান রাজনীতিবীদ বেগম সেলিমা রহমান রাজনীতিবীদ এনায়েত উল্লাহ খান বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর মেজর এম এ জলিল, মুক্তিযুদ্ধে ৯ নং সেক্টর কমান্ডার বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ  সৈয়দ ওয়ালী উল্ল্যা’র মতো শত বিখ্যাত মানবতাবাদি লেখক, সাহিত্যিকও নোয়াখালী এবং বরিশাল অঞ্চলের।

ভালো-মন্দ মানুষ সব অঞ্চল ও জেলাতেই আছে। আমার এই লেখা কোন অঞ্চলের মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য নয়। অজানা কিছু তথ্য শুধু তুলে ধরাই আমার উদ্দেশ্যে।