প্রাকৃতিক উপায়ে শুষ্ক ত্বকের যত্ন

প্রাকৃতিক উপায়ে শুষ্ক ত্বকের যত্ন

নিউজডেস্ক২৪: বছরের এই সময়ে সবার ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। কারও কারও ত্বক ফেটে যায়। যাদের ত্বক একটু শুষ্ক ও রুক্ষ প্রকৃতির, অন্যদের চেয়ে তাদের সমস্যা একটু বেশিই হয় এ সময়টাতে। শুষ্ক ত্বকের জন্য এ সময় তাই দরকার বাড়তি যত্ন।

অতিরিক্ত ত্বক ফাটার সমস্যা হতে পারে জন্মগত কারণে। আবার কিছু রোগের কারণেও এমন হতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরও অতিরিক্ত ত্বক ফাটলে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কেন ত্বক শুষ্ক হয়?

বংশগত বা জিনগত কারণে অনেকের ত্বকে তেলগ্রন্থিগুলো প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকে। এর ফলে পর্যাপ্ত তেল নিঃসৃত হয় না। তাই ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

* বয়স ৪০-এর পর তেল ও ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা কমে যায়। তাই পর্যাপ্ত গ্রন্থি না থাকার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ছোটদের তেলগ্রন্থিগুলো সঠিকভাবে গঠিত থাকে না, ফলে তাদের ত্বকও শুষ্ক হতে পারে।যাদের ত্বকের গঠন পাতলা, তাদের ত্বক শুষ্ক হয়।

* পেশার কারণে অনেকের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। যাঁরা কৃষি বা কনস্ট্রাকশনের কাজ করেন, তাঁদের ত্বকও শুষ্ক হয়ে যায়।

* ক্লোরিনযুক্ত পানিতে অতিরিক্ত সাঁতার কাটলে বা গোসল করলে বিশেষ করে গরম পানি বা ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়।

* বারবার কেমিক্যাল কন্টাক্ট, ধূমপান, অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন গ্রহণ, অতিরিক্ত আকাশপথে ভ্রমণ, ভিটামিন এ ও বি এবং জিঙ্ক ও ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব হলেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

* পানিশূন্যতা হলে যেমন-ডায়রিয়া, উচ্চ মাত্রার জ্বর, অতিরিক্ত ঘামা এবং প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পানি পান না করা হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

* কিছু চর্ম রোগের কারণে যেমন একজিমা, ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াছিসে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

* কিছু ওষুধ সেবন, এয়ার কন্ডিশনে অতিরিক্ত অবস্থান, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত পারফিউম ব্যবহার ইত্যাদিও ত্বক শুষ্ক করে।

কীভাবে প্রতিকার?

* ত্বক শুষ্ক হওয়ার প্রকৃত কারণ বের করে তা পরিহার করতে হবে।

* ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর আগে মুখের মরা কোষ পরিষ্কার করুন।

* দীর্ঘক্ষণ গোসল করবেন না। গরম পানিতে গোসল করবেন না।

* ময়েশ্চারাইজারযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন।

* নরম সুতির আরামদায়ক কাপড় পরার চেষ্টা করবেন।

* যতটা সম্ভব কম মেকআপ ব্যবহার করুন।

* সারা দিনে দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করুন।

* প্রতিদিন মৌসুমি ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং শাকসবজি বেশি করে খাবেন।

প্রাকৃতিক উপায়ে শুষ্ক ত্বকের যত্ন

চকোলেট 

একটু অবাক করার মতো বিষয় না? চকোলেট আবার কী করে ত্বক পরিচর্যার উপকরণ হতে পারে? তবে এটি পরীক্ষিত সত্যি যে চকোলেট শুষ্ক ত্বকে অনেক ভালো ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশুদ্ধ চকোলেট গলিয়ে নিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও নরম হয়। এছাড়া পাঁচ টেবিল চামচ কোকো পাউডার, পাঁচ টেবিল চামচ মধু, দুই চা চামচ ভূট্টা গুড়ো, দুই টেবিল চামচ ম্যাশড পটেটো একসাথে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে বিশ মিনিট পর গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য খুব ভালো একটি প্যাক।

টকদই
দুই টেবিল চামচ টকদই এর সাথে মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। ঘন্টা খানেক পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের শুষ্কতা কেটে গিয়ে তা নরম ও নমনীয় হবে। সেইসাথে শুষ্কতা কমে গিয়ে ত্বকের জেল্লা বাড়বে।

অলিভ অয়েল

অলিভ ওয়েল এমন একটি উপাদান যা একইসাথে ত্বকের সুস্থতায় নানা রকমের ভূমিকা পালন করে। ত্বকে এন্টি অক্সিডেন্ট জোগায়, পুষ্টি ও অক্সিজেনের যোগান দেয়। অলিভ অয়েল শুষ্ক ত্বকে ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া প্রতিদিন গোসলের আগে পুরো গায়ে ম্যাসেজ করলে ত্বক থাকবে সুস্থ ও সুন্দর।

ডিম

শুষ্ক ত্বকের সুস্থতায় ডিম হতে পারে ভালো একটি উপাদান। ডিমের কুসুমের সাথে ক্যাস্টর অয়েল, কমলার রস, অলিভ অয়েল, মধু, লেবুর রস ও গোলাপজল মিশিয়ে নিয়ে ত্বকে লাগালে শুষ্ক ত্বকের রুক্ষভাব কেটে যাবে।

নারকেল তেল

চুলে ব্যবহারের পাশাপাশি নারকেল তেল শুষ্ক ত্বকেও ভালো কাজ করে। শুষ্ক ত্বকের ব্রণ দূর করতে, ত্বক হাইড্রেট করতে, নানা ধরণের জীবানু ধ্বংস করতে নারকেল তেল বেশ উপকারী। নারকেল তেল, পানি, মধু ও লেবুর রসের তৈরি প্যাক খুব উপযোগী শীতকালের জন্য।

বেসন

বলিরেখা দূর করতে বেসন খুব ভালো কাজ করে। বেসন, হলুদ, মধু ও সামান্য দুশ একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। এরপর শুকিয়ে গেলে গরম পানি দিয়ে মুছে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং ত্বকের আদ্রতাও বৃদ্ধি পাবে অনেক গুণে।

মধু
মধু ও কমলার রস মুখে লাগিয়ে রাখুন দশ মিনিট। কিছুক্ষন পরে ধুয়ে ফেলুন। এই পেস্টটি ত্বকে বলিরেখা দূর করে, ত্বকের রুক্ষতা দূর করে ত্বককে করে তোলে কোমল।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা এমন একটি উপাদান যা সব ধরণের ত্বকে, সব ধরণের সমস্যাতেই কোন না কোন সমাধানের ব্যবস্থা করে। অ্যালোভেরা আর নারকেল তেল একসাথে মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন শুষ্ক ত্বকের জন্য উপযোগী ময়েশ্চারাইজার।