ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৪ মহররম ১৪৪০

ত্বকের যত্নে ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার!

ত্বকের যত্নে ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার!

নিউজডেস্ক২৪: শীত হোক বা গ্রীষ্ম সঠিক যত্নেই থাকতে পারে স্বাস্থ্য উজ্জ্বল ত্বক। আর্দ্রতা হচ্ছে সুন্দর ত্বকের গোপন রহস্য। আর ময়েশ্চারাইজিং হলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার প্রধান উপায়। তাই ত্বক সুন্দর রাখতে ক্লেনজিং, টোনিং তো করবেনই পাশাপাশি দেখতে হবে ময়েশ্চারাইজিংও হচ্ছে কিনা। যদিও বাজারে কিনতে পাওয়া যায় নানা রকমের ময়েশ্চারাইজার। তবে কৃত্রিম এসব ময়েশ্চারাইজারের পরিবর্তে যদি ব্যবহার করেন প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার তাহলে ত্বক হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয়, আরও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। অনেকে ভাবছেন কোথায় পাওয়া যাবে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। কিন্তু ঘরেই পাবেন এই সকল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। তার জন্য প্রথমে আপনাকে জেনে নিতে হবে আপনার ত্বকের ধরন, তার পর ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজিংইয়ের ব্যবহারে হয়ে উঠবেন সুন্দর ত্বকের অধিকারী।

চলুন জেনে নেই আপনার ত্বকের ধরন ও তার সাপেক্ষে ঘরোয়া প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার।

শুষ্ক ত্বকের জন্য

১। ত্বক ভালো করে পরিষ্কার করে প্রতিদিন বিকেলে অলিভ অয়েল বা ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তেল লাগানো শুরু করেন।

২। অলিভ অয়েল, লেবুর রস, ডিমের সাদা অংশ ভালো করে মিশিয়ে ১৫ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখতে হবে। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি খুব ভালো প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।

৩। ভিটামিন ও ফ্যাট সমৃদ্ধ নারকেল তেল ত্বক নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। নারকেল তেলের সাথে কোকোয়া বাটার মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে হবে। এই ময়েশ্চারাইজারও ত্বকের ওপর প্রতিরক্ষামূলক পরত তৈরি করে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪। মধু ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। লেবুর রস, দই, ডিমের সাদা অংশ, মধু ভালো করে মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে। এরপর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। মধুর সাথে গুঁড়ো দুধ মিশিয়েও লাগাতে পারেন।

৫। আমন্ড অয়েল, গ্লিসারিন মিশিয়ে বোতলে ভরে রেখে। সপ্তাহে একবার ত্বকে ম্যাসাজ করতে হবে।

৬। কুসুম গরম পানিতে কাঠবাদাম ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর খোসা তুলে কাঠবাদাম পিষে নিয়ে। এর সাথে মধু ও অল্প একটু গরম পানি মিশিয়ে। মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে ত্বকে লাগাতে হবে।এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে।

৭। নারকেল তেল, আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল ৩:২:১ অনুপাতে মিশিয়ে প্রতিদিন গোসলের পরে সারা গায়ে মাখতে হবে। এতে করে ত্বকে টানভাব থাকবে না।

৮। কয়েকটি খেজুর মিহি করে বেটে নিয়ে। খেজুরবাটা আমন্ড অয়েলের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ফুটাতে হবে। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে কাচের পাত্রে রেখে। গোসলের আগে এই মিশ্রণ পুরো গা-হাত-পায়ে আলতো করে ম্যাসাজ করে তারপর গোসল করে ফেলতে হবে।

শুষ্ক ত্বকের যত্নে আরো কিছু ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার দেওয়া হল-

১। মধু এবং ডিমের কুসুম

শুষ্ক ত্বকের জন্য মধু এবং ডিমের কুসুম খুব ভাল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। সমপরিমাণের মধু এবং ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিতে হবে। মুখ ও ঘাড়ে ভাল করে লাগিয়ে রাখতে হবে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। এরপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ভাল ফল পেতে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে ভাল হয়।

২। অলিভ অয়েল

অনেকেই বডি লোশনের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করে থাকেন। এই অলিভ অয়েল শরীরের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি মুখেও ব্যবহার করতে পারেন। অলিভ অয়েল সরাসরি মুখে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া আপনার প্রতিদিনকার ব্যবহৃত লোশনের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। গোসলের আগে অলিভ অয়েল হাত-পা সহ সারা শরীরের ম্যাসাজ করে। তারপর গোসল করতে হবে। গোসল শেষে হালকা কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ভাল হবে।

৩। মধু এবং দুধ

দুই টেবিল চামচ মধু এবং দুই টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে নিয়ে। এটি মুখে লাগাতে হবে। কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি ত্বকের টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে থাকে।

৪। অ্যালোভেরা এব দুধ

অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে নিয়ে। অ্যালোভেরা জেলের সাথে দুই টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে। এই প্যাকটি মুখ এবং ঘাড়ে ব্যবহার করতে হবে। ১০-১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। অ্যালোভেরা ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দূর করে থাকে।

৫। টকদই এবং কলা

অর্ধেকটা কলা এবং চার টেবিল চামচ টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিয়ে। এবার প্যাকটি ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে দিয়ে। ২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। কলা এবং টকদইয়ের মিশ্রণ ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে। এর সাথে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে দেয়।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য

১। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টমেটোর রস ভালো ময়েশ্চারাইজার। এটা খোলা রোমকূপের সমস্যা  প্রতিরোধ করে।

২। গোলাপজলের সাথে চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে বোতলে ভরে রাখতে হবে। গোসলের পরে ত্বকে লাগাতে থাকুন। দেখবেন ত্বক উজ্জ্বল হয়ে যাবে।

৩। লেটুসপাতার রস, মধু, লেবুর রস মিশিয়ে ক্লেনজিং, টোনিংয়ের পর নিয়মিত লাগাতে পারেন। আশা করি ভাল ফলাফল পাবেন।

৪। বেল কুরিয়ে নিয়ে এর সাথে মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখতে হবে ১০ মিনিট মত। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

৫। পাকা পেঁকে চটকে রাতে শুতে যাওয়ার আগে ত্বকে ম্যাসাজ করতে হবে। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেললে। ত্বকের অনেক উপকার পাবেন।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য

১। স্বাভাবিক ত্বকের ক্ষেত্রে ৫-৬ ফোঁটা আমন্ড অয়েল ও গোলাপজল ভালো করে মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করতে হবে। এতে ত্বকের উজ্জ্বল ফুটে উঠবে।

২। লবণ ছাড়া মাখন ও কমলার রস মিশিয়ে গোসলের আগে ত্বকে লাগাতে পারেন। এতে ত্বক নরম হবে।

৩। ভিনেগার, অলিভ অয়েল, মধু মিশিয়ে গোসলের পর ম্যাসাজ করলে অনেক উপকার পাবেন ত্বকে।

৪। স্ট্রবেরি চটকে নিতে হবে। এর সাথে গোলাপজল মিশিয়ে নিয়ে ত্বকে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখতে হবে। এতে ত্বক উজ্জ্বল ও চকচকে হবে।

৫। তরমুজের ফালির ওপর লেবুর রস ছিড়িয়ে ফ্রিজে ২০ মিনিট রেখে দিয়ে। ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ত্বকের ওপর লাগিয়ে রাখতে হবে কিছু সময়। এটি শরীরের তাপমাত্রা কমানোর সাথে সাথে ত্বকের জৌলুসভাব বজায় রাখে। ত্বকে বলিরেখা পড়ে না।

৬। গ্রিন টি-এর লিকার, আমন্ড অয়েল ও সামান্য পানি মিশিয়ে গরম করে নিতে হবে। ঠাণ্ডা হলে এতে ভিটামিন ই অয়েল মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করতে হবে।