ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ০৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ১৩ মহররম ১৪৪০

ব্যাংককের অসাধারণ সব ভ্রমণস্থান

ব্যাংককের অসাধারণ সব ভ্রমণস্থান

নিউজডেস্ক২৪: বিদেশ ভ্রমণ অনেকের কাছে এক ধরনের বিলাসিতা বলে মনে হতে পারে। তবে অনেকেই নিজের দেশের সৌন্দর্য এবং দেশের সীমানা পেরিয়ে দেখতে চায় অন্য দেশের রীতিনীতি, সংস্কৃতি, বেশভূষা আর সে দেশের বিশেষ আকর্ষণগুলো। বিদেশ ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিশ্বভ্রমণে মন প্রশস্ত হয়। একটি বিশ্বমানের মন গড়তে চাইলে বিশ্বের পথে হাঁটতে হয়, শিখতে হয় বিশ্বের কঠিন সব নিয়মনীতি। তবে তারও আগে ঘর থেকে বের হয়ে দেখে নিতে হবে নিজের দেশখানি।

আজ আমরা কথা বলবো ব্যাংকক শহর নিয়ে। সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক এমনই এক শহর যেখানে সপ্তাহের পর সপ্তাহ থাকলেও অদেখা রয়ে যাবে অনেক কিছুই। ব্যাংককের শপিং মল, বিভিন্ন বাজার, মন্দির, প্রাসাদ, জাদুঘর, রাজকীয় স্থাপত্য আর রাতের ব্যাংকক আপনাকে বিরক্ত হতে দেবে না এক মুহূর্তের জন্য। তাই যারা দিশেহারা হয়ে খুঁজছেন ব্যাংককে গিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরবেন তাদের জন্যই আজকের এই লেখার অবতারণা। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক ব্যাংকক ভ্রমণে কোন কোন জায়গা থাকবে পছন্দের তালিকার একদম উপরে।

১. দ্য গ্র্যান্ড প্যালেস

ব্যাংককের ইতিহাস আর ঐতিহ্য বহু বছর পুরনো। সেই প্রাচীন ইতিহাসের আধুনিক সাক্ষী হতে চাইলে ঘুরে দেখতে হবে এই শহরের সব প্রাসাদ আর জাদুঘর। বিশাল বিশাল সব প্রাসাদ আর দালানকোঠার কলোনির মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে “দ্য গ্র্যান্ড প্যালেস” খ্যাত এই প্রাসাদটি। ১৭৮২ সালে ব্যাংকক শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রাসাদটি যা গত ১৫০ বছর ধরে থাই রাজাদের আবাসনের স্থায়ী ঠিকানা।

দ্য গ্র্যান্ড প্যালেস রাজকীয় দরবারখানা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক ব্যাংককের স্বাদ নিতে চাইলে এখানে আসতেই হবে আপনাকে। এই দেশের ইতিহাসে বেশ ভালো প্রভাব রয়েছে প্রাসাদটির। স্থানীয়দের কাছে শোনা যায়, ব্যাংককের শীর্ষ ভ্রমণস্থান এটি।

২. চায়না টাউন, ব্যাংকক

চায়না টাউন নাম শুনে মনে করবেন না ব্যাংককের গল্প করতে করতে চীনে চলে গেছি। এই চায়না টাউন ব্যাংককের ভেতরেই অবস্থিত। বিশ্বের অনেক দেশেই চায়না টাউন আছে, এমনকি সিঙ্গাপুরেও আছে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চায়না টাউন ব্যাংককেই অবস্থিত। এত বিশাল চায়না টাউনে মানুষের পরিমাণও নেহাত কম নয়। ব্যাংককের খাবার-দাবারের স্বর্গ বলা হয় এই চায়না টাউনকে। যারা ভোজন রসিক তাদের তো আসতেই হবে এখানে।

চার রাস্তার মোড়ে সাজানো এই চায়নাটাউনে ছোট বড় দোকানের কোনো কমতি নেই, ব্যাংককের অধিকাংশ শপিং মানুষ এখান থেকেই করে। তবে যে জিনিসের জন্য চায়নাটাউন সবচেয়ে বিখ্যাত তা হল স্বর্ণ। হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন, বিশ্বের স্থানীয় স্বর্ণ বাজারগুলোর মধ্যে ব্যাংককের চায়নাটাউনের স্বর্ণবাজারের আলাদা নামডাক আছে। বাংলাদেশ থেকে অনেক কম দামে স্বর্ণ কিনতে পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই যতটুকু দেশে নিয়ে আসা যায় তা বৈধ উপায়ে আনার চেষ্টা করবেন নাহলে বাংলাদেশ বিমানবন্দরে অতিরিক্ত স্বর্ণ পাওয়া গেলে স্বর্ণ তো যাবেই, জরিমানা হবে লাখ টাকার ঘরে।

৩. ওয়াট ফু, ব্যাংকক

ব্যাংকক মূলত বুদ্ধ দেশ, জাতীয় ধর্ম সেখানে বৌদ্ধ ধর্ম। তাই ব্যাংককের অলিতে গলিতে প্রচুর প্যাগোডার দেখা পাবেন। প্যাগোডাকে ব্যাংককের ভাষায় স্তুপা বলা হয়। ব্যাংককের সকল স্তুপার মধ্যে যেটি সবচেয়ে জনপ্রিয় সেটি হলো ওয়াট ফু স্তুপা। বিশাল এই প্যাগোডা বেশ জনপ্রিয় তার বিশাল শায়িত বুদ্ধদেবের জন্য। এই প্যাগোডার অধীনে কিছু দুর্দান্ত ভাস্কর্য, পান্ডুলিপি, দেয়ালিকা আছে যা জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে শুরু করে যুদ্ধবিদ্যা, সমুদ্রবিজ্ঞান সব কিছুরই অত্যন্ত সূক্ষ্ম বার্তা প্রদান করে।

এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটালেও মনে হবে কিছুই তো দেখিনি। প্যাগোডার পুরো কমপ্লেক্সটি সাজানো বিশাল বাগানে যেখানে আছে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা কলেজ, একটি স্মারকের দোকান আর পাথরের সব ভাস্কর্য। ব্যাংককের সবচেয়ে ভালো স্মারক পাওয়া যাবে এখানেই।

৪. সী লাইফ, ব্যাংকক

কেমন হয় যদি চারপাশের সবটাই একটা মস্ত অ্যাকুরিয়াম হয় যেখানে হাজার হাজার মাছ আপনার চারপাশে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে? ব্যাংককের সী লাইফ তেমনই একটি অ্যাকুরিয়াম। তবে যেকোনো সাধারণ অ্যাকুরিয়াম নয় এটি। “সী লাইফ” অ্যাকুরিয়ামটি গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অ্যাকুরিয়ামগুলোর মধ্যে একটি। তাহলে বুঝতেই পারছেন কত বড় অ্যাকুরিয়াম নিয়ে কথা বলছি! আপনার সাথে যদি বাচ্চাকাচ্চা থাকে তবে ব্যাংককের দিনগুলোতে এই সী লাইফ ভ্রমণই হয়ে দাঁড়াবে মুখ্য ভ্রমণস্থানগুলোর একটি।

এখানে এক-দেড় ঘণ্টার মতো সময় কাটালে টিকেটের দাম আপনার কাছে একটু বেশি মনে হতে পারে। তবে বেশিক্ষণ ঘুরে কাটালে মনে হবে দাম ঠিকই আছে। আপনি ইচ্ছা করলে টিকেটটি আপগ্রেড করে হাঙ্গরের ট্যাংকের ভ্রমণও করে ফেলতে পারবেন বাচ্চাকাচ্চা সহ। গ্লাস টিউবের নৌকা দিয়ে এই ভ্রমণ করায় সী লাইফ কর্তৃপক্ষ তাই এতে ভয়ের কিছুই নেই।

৫. ব্যাংকক জাতীয় জাদুঘর

যেকোনো দেশের ঐতিহ্য আর ইতিহাস বুঝতে হলে অবশ্যই এর জাদুঘরগুলোতে যেতে হবে, সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে প্রতিটি নিদর্শন। ব্যাংককের বিভিন্ন দিক এবং বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি জাদুঘরের মধ্যে জাতীয় জাদুঘরের জনপ্রিয়তাই সবচেয়ে বেশি। কারণ এখানে ব্যাংককের একটি সার্বিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যাবে।

পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সবেচেয়ে বড় জাদুঘর এটি। অবাক হয়েছেন নিশ্চয়ই? বিশাল এই জাদুঘর ঘুরে দেখতে কমপক্ষে তিন থেকে চার ঘণ্টা আপনাকে ব্যয় করতেই হবে এবং আপনি যদি ইতিহাসে আগ্রহী নাও হয়ে থাকেন তবুও জাদুঘর থেকে বের হওয়ার সময় এক মুহূর্তের জন্যও মনে হবে না এই তিন-চার ঘণ্টা সময় আপনি নষ্ট করেছেন।

৬. খাও সান রোড, ব্যাংকক

নাম শুনে মনে করছেন একটা রাস্তা আবার ঘুরতে যাওয়ার জায়গা হয় নাকি? প্রশ্নটা যখন ব্যাংকককে ঘিরে তাই আপনার প্রশ্নের উত্তর হবে “হ্যাঁ “। ছোট একটা রাস্তা এই খাও সান রোড। তবুও জীবনের জয়গানের কোনো কমতি নেই এখানে। ব্যাংকক আসলে এখানে কোনো না কোনো কারণে আপনাকে আসতেই হবে। এখান থেকে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন শহরের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়, প্রচুর দোকান আছে এই রাস্তায়।

এখানকার আকাশে বাতাসেই ভালো লাগা কাজ করে। সস্তায় শপিং করতে চাইলে খাও সান রোডই হবে আপনার গন্তব্য। যদি এত কিছুর জন্যও এখানে আসা হয়ে না ওঠে তবে সস্তায় হোটেল খুঁজতে এখানে আসতেই হবে। রাস্তার ধারে প্রচুর দোকান গড়ে উঠেছে যেখানে অল্প টাকায় হাতের তৈরি জিনিস, ছোটখাট শৌখিন বস্তু আর সিডি পাওয়া যায়। রাতের বেলায় বিভিন্ন বার থেকে ভেসে আসা গানের আমেজে আড্ডা দেয়ার সবচেয়ে উত্তম জায়গা হচ্ছে খাও সান রোড।

৭. শাও ফরায়া নদী, ব্যাংকক

ব্যাংককের একদম মাঝ বরাবর বয়ে চলেছে শাও ফরায়া নদী। ব্যাংককের অধিকাংশ রিসোর্ট আর হোটেল থেকে সরাসরি নৌকা ভাড়া করে দেখা যায় ব্যাংককের সব ভ্রমণস্থান। যানজট বিহীন, শান্ত, সুন্দর একটি নৌকা ভ্রমণ আপনার ব্যাংকক ভ্রমণকে করে তুলবে আরো আকর্ষণীয়।

৮. ছাতুচাক উইকেন্ড মার্কেট, ব্যাংকক

ব্যাংককে আপনি কেনাকাটা করে যত আনন্দ পাবেন অন্য কোনো দেশে করে পাবেন কিনা জানি না। প্রচুর শপিং মল আর মার্কেটের শহর ব্যাংকক। ব্যাংককের ছাতুচাক মার্কেট শহরের অন্যতম তেমনই এক বাজার যেখানে মোট দোকান সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি। শুধু শনিবার আর রোববার খোলা থাকে মার্কেটটি। এই দুই দিনের প্রতিদিন এখানে কেনাকাটা করতে আসে গড়ে দুই লক্ষ মানুষ। তাহলে বুঝতেই পারছেন ব্যাংককে কতটুকু জনপ্রিয় মার্কেট এটি।